ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লির একটি হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ১৮ বিদেশি নাগরিকসহ কমপক্ষে ২১জন নিহত হয়েছেন।
নিহতদের মধ্যে বাংলাদেশিসহ নাইজেরিয়া, মোজাম্বিক ও লাইবেরিয়ার নাগরিক রয়েছেন।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায়, আজ বুধবার সকাল ৯টার দিকে দক্ষিণ দিল্লির মালভিয়া নগরে অবস্থিত ফ্লোরিশ স্টে নামের একটি চারতলা হোটেলে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও উদ্ধারকাজে প্রাথমিকভাবে সহায়তাকারীরা জানান, মূলত চারতলা ভবনের নিচতলা ও প্রথম তলায় আগুন লাগে। তবে দ্রুত আগুন ছড়িয়ে পড়ায় ভবনে থাকা সবাই ভিতরে আটকে যান।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান,জীবন বাঁচাতে আগুনে পুড়তে থাকা ভবন থেকে বেশ কয়েকজন লাফ দিয়ে নিচে লাফ দিয়েছিলেন। স্থানীয় বাসিন্দারা তখন নিকটবর্তী দোকান থেকে তোষক এনে সড়কে বিছিয়ে দেন। ওই সময় শিশুসহ এক নারীকে উপর তলা থেকে লাফ দিয়ে নিচে পড়তে দেখা যায়।
টেলিভিশন ফুটেজে দেখা যায়, ভবনটি আগুনে পুড়ছে আর ধোঁয়ায় ছেয়ে গেছে। এ অবস্থায় সবচেয়ে উপর তলা থেকে দুজন ব্যক্তি লাফিয়ে নিচে পড়েেন।
ওই ঘটনায় স্থানীয় পুলিশ এক বিবৃতিতে জানায়, অগ্নিকাণ্ডের পরপর আগুন নেভাতে ফায়ার সার্আভিসের আটটি গাড়ি ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়। দুপুরের দিকে তারা আগুন নেভাতে সক্ষম হয়।
ওই সময়ের ভিতর পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও জরুরি সেবা প্রদানকারী বিভিন্ন বিভাগের কর্মীদের সহায়তায় ভবনে আটকে পড়া ৪০জনকে উদ্ধার করে দ্রুত স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে অগ্নিকাণ্ডের শিকার হয়ে ২১ জন প্রাণ হারান।
রাষ্ট্রায়ত্ত অল ইন্ডিয়া ইন্সটিটিউট অব মেডিক্যাল সায়েন্সেস কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তাদের হাসপাতালে অগ্নিকাণ্ডের শিকার ১৩জন ভুক্তভোগী ভর্তি হয়েছেন, যাদের মধ্যে দুজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
অগ্নিকাণ্ডটি ২০২২ সালের পর নয়াদিল্লিতে ঘটা অন্যতম ভয়াবহ ঘটনা। এ ঘটনায় ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এক এক্স বার্তায় শোক জানিয়েছেন। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্তদের যাবতীয় সহায়তা দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন।
স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তা জিতেন্দ্র কুমার বলেছেন, ভবনটির নিচতলায় থাকা রেস্তোরাঁ থেকে আগুনের সূত্রপাত বলে ধারণা করা হচ্ছে। অগ্নিকাণ্ডের কারণ বর্তমানে তদন্তাধীন।