ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভসহ কয়েকটি অঞ্চলে রাতভর রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় অন্তত ১৭ জন নিহত হয়েছেন। ওই ঘটনায় আহত হয়েছেন একশরও বেশি মানুষ।
ইউক্রেনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়, উভয়ই নিশ্চিত করেছে হামলার তথ্য।
ইউক্রেনের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ইহোর ক্লিমেঙ্কোর টেলিগ্রাম পোস্টে জানান, হামলায় কিয়েভ, দিনিপ্রো ও খারকিভ অঞ্চলে সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। কিয়েভে অন্তত ছয়জন ও দিনিপ্রো অঞ্চলে এক শিশুসহ ১১ জন নিহত হয়েছেন।
দেশটির বিমান বাহিনী জানিয়েছে, রাশিয়া ৭৩টি ক্ষেপণাস্ত্র ও ৬৫৬টি ড্রোন হামলা চালিয়েছে। এর মধ্যে ৪০টি ক্ষেপণাস্ত্র এবং ৬০২টি ড্রোন প্রতিহত করা হয়েছে।
কিয়েভের মেয়র ভিতালি ক্লিচকো জানিয়েছেন, হামলায় চারটি চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ ছাড়া পোদিলস্কি জেলায় একটি নয়তলা আবাসিক ভবন ধসে পড়েছে।
ইউক্রেনীয় পার্লামেন্টের স্পিকার রুসলান স্টেফানচুক বলেছেন, ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনও মানুষ আটকা পড়ে থাকতে পারেন।
হামলার পরপর দেশটির প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এক বার্তায় ইউক্রেনের জন্য অ্যামেরিকার কাছে ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে সহায়তা চেয়েছেন।
জেলেনস্কি তার বার্তায় বলেন, ‘এ হামলা হলো রাশিয়ার পক্ষ থেকে স্বচ্ছ বার্তা-ইউক্রেনকে যদি ব্যলিস্টিক ও অন্যান্য ক্ষেপণাস্ত্র হামলা থেকে রক্ষা না করা হয়, তাহলে তা চলতেই থাকবে।’
তিনি আরও বলেন,’যুদ্ধ বন্ধে ইউক্রেনকে ব্যালিস্টিক ও অন্যান্য ক্ষেপণাস্ত্র হামলা থেকে রক্ষার সক্ষমতা জোরদার করতে হবে।’
পরে তিনি ইউরোপকে নিজস্ব ব্যালিস্টিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলার আহ্বান জানান এবং অ্যামেরিকার কাছে প্যাট্রিয়ট সিস্টেমের অত্যাধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও আরও ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহের অনুরোধ করেন।
এদিকে রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে দাবি করেছে, তারা উচ্চ-নির্ভুলতাসম্পন্ন দূরপাল্লার অস্ত্র, হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ব্যবহার করে ইউক্রেনের নির্ধারিত সব লক্ষ্যবস্তুতে ব্যাপক হামলা চালিয়েছে।
বিবৃতিতে জানানো হয়,হামলার পাশাপাশি মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত রাতভর ইউক্রেনের অন্তত ১৪৮টি ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে। ড্রোন হামলার কারণে রাশিয়ার কয়েকটি বিমানবন্দরে সাময়িকভাবে ফ্লাইট চলাচলেও বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়।