১৫ বছরের নিচে শিশুদের জন্য সামাজিক মাধ্যম নিষিদ্ধ করতে যাচ্ছে ফ্রান্স

টিবিএন ডেস্ক

প্রকাশিত: জানুয়ারি ২৭ ২০২৬, ১৫:০৪

১৫ বছরের নিচে শিশুদের জন্য সামাজিক মাধ্যম নিষিদ্ধ করতে যাচ্ছে ফ্রান্স
  • 0

ফ্রান্সে ১৫ বছরের নিচে শিশুদের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিষিদ্ধ করতে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিল অনুমোদন দিয়েছে দেশটির আইনপ্রণেতারা। এই আইনের মাধ্যমে আগামী সেপ্টেম্বর থেকে নতুন শিক্ষাবর্ষের শুরুতেই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হওয়ার পথ তৈরি হলো। সামাজিকস মাধ্যমের পাশাপাশি হাই স্কুলে মোবাইল ফোন ব্যবহার নিষিদ্ধ করে আনা বিলটি সোমবার রাতে ১৩০-২১ ভোটে গৃহীত হয়। ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ আইনটি দ্রুত পাস করার অনুরোধ করেছেন এবং আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে এটি সেনেটে আলোচনা করা হবে।

ফ্রান্সে ১৫ বছরের নিচে শিশুদের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিষিদ্ধ করতে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিল অনুমোদন দিয়েছে দেশটির আইনপ্রণেতারা। এই আইনের মাধ্যমে আগামী সেপ্টেম্বর থেকে নতুন শিক্ষাবর্ষের শুরুতেই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হওয়ার পথ তৈরি হলো।

সামাজিকস মাধ্যমের পাশাপাশি হাই স্কুলে মোবাইল ফোন ব্যবহার নিষিদ্ধ করে আনা বিলটি সোমবার রাতে ১৩০-২১ ভোটে গৃহীত হয়। ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ আইনটি দ্রুত পাস করার অনুরোধ করেছেন এবং আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে এটি সেনেটে আলোচনা করা হবে।

ভোটাভুটির পর ম্যাক্রোঁ বলেন“১৫ বছরের নিচে শিশুদের জন্য সামাজিক মাধ্যম নিষিদ্ধ করা—এটাই বিজ্ঞানীরা সুপারিশ করছেন এবং ফরাসি জনগণও সেটাই জোরালোভাবে চাইছে। আমাদের শিশুদের মস্তিষ্ক বিক্রির জন্য নয়—না আমেরিকান প্ল্যাটফর্মের কাছে, না চায়না নেটওয়ার্কের কাছে। তাদের স্বপ্ন কোনো অ্যালগরিদম ঠিক করে দেবে না।”

আইনে কী কী থাকছে

এই নতুন বিলে—

  • ১৫ বছরের নিচে শিশুদের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হচ্ছে
  • উচ্চ বিদ্যালয়ে (High School) মোবাইল ফোন ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হচ্ছে
  • তবে অনলাইন বিশ্বকোষ, শিক্ষামূলক ও বৈজ্ঞানিক প্ল্যাটফর্ম এবং ওপেন-সোর্স সফটওয়্যার শেয়ারিং প্ল্যাটফর্ম এই নিষেধাজ্ঞার বাইরে থাকবে

ফ্রান্সে এর আগেই প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে মোবাইল ফোন ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়েছিল।

শিশুদের মানসিক স্বাস্থ্যই মূল উদ্বেগ

ফ্রান্সের স্বাস্থ্য পর্যবেক্ষক সংস্থার তথ্য অনুযায়ী—

  • প্রতি দুইজন কিশোরের একজন দৈনিক ২ থেকে ৫ ঘণ্টা স্মার্টফোন ব্যবহার করে
  • ১২ থেকে ১৭ বছর বয়সি শিশুদের প্রায় ৯০ শতাংশ প্রতিদিন ইন্টারনেটে প্রবেশে স্মার্টফোন ব্যবহার করে
  • এদের মধ্যে ৫৮ শতাংশ সামাজিক মাধ্যমে সক্রিয়

ডিসেম্বরে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়,
সামাজিক মাধ্যম ব্যবহারের ফলে—

  • আত্মসম্মানবোধ কমে যাচ্ছে
  • আত্মহানি, মাদক ব্যবহার ও আত্মহত্যা–সংক্রান্ত ঝুঁকিপূর্ণ কনটেন্টে সংস্পর্শ বাড়ছে

এরই মধ্যে ফ্রান্সে একাধিক পরিবার টিকটক–এর বিরুদ্ধে মামলা করেছে। তাদের অভিযোগ—কিশোরদের আত্মহত্যার পেছনে ক্ষতিকর কনটেন্ট ভূমিকা রেখেছে।

সমর্থন ও সমালোচনা

বিভক্ত আইনসভার খুব অল্প কয়েকটি ইস্যুর মধ্যে এটি একটি—যেখানে ব্যাপক রাজনৈতিক সমর্থন দেখা গেছে। তবে কট্টর বামপন্থী কিছু দল এই আইনকে নাগরিক স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ বলে সমালোচনা করেছে।

রাজনৈতিকভাবে দুর্বল অবস্থায় থাকা প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রোঁ এই আইনকে জোরালোভাবে সমর্থন করছেন। বিশ্লেষকদের মতে, এটি তার মেয়াদের শেষের দিকে নেওয়া অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক নীতি হতে পারে।

ইউরোপ ও বিশ্বের প্রেক্ষাপট

এই আইনটি ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের ডিজিটাল সার্ভিসেস অ্যাক্ট এর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে তৈরি করা হয়েছে। এর আগে ইউরোপিয়ান আইনপ্রণেতারা ইইউ–জুড়ে শিশুদের জন্য ১৬ বছরের ন্যূনতম বয়সসীমা নির্ধারণের আহ্বান জানিয়েছিলেন।

বৃটেইনও সম্প্রতি জানিয়েছে—তারা কিশোরদের সামাজিক মাধ্যম ব্যবহার সীমিত করার বিষয়টি বিবেচনা করছে।

অন্যদিকে অস্ট্রেলিয়া ইতোমধ্যে ১৬ বছরের নিচে শিশুদের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিষিদ্ধ করেছে। দেশটির কর্মকর্তারা জানান, এই আইনের আওতায় প্রায় ৪.৭ মিলিয়ন শিশুর অ্যাকাউন্ট বন্ধ করা হয়েছে। যদিও সেখানে এই সিদ্ধান্ত ঘিরে গোপনীয়তা, মানসিক স্বাস্থ্য ও প্রযুক্তি ব্যবহারের স্বাধীনতা নিয়ে তীব্র বিতর্ক চলছে।

বিশ্লেষণ

বিশ্লেষকদের মতে, ফ্রান্সের এই সিদ্ধান্ত শুধু একটি দেশের নীতি পরিবর্তন নয়—
এটি ইউরোপজুড়ে শিশুদের ডিজিটাল সুরক্ষা নিয়ে বড় ধরনের দৃষ্টান্ত তৈরি করতে পারে।

শিশুদের মানসিক স্বাস্থ্য, প্রযুক্তির নিয়ন্ত্রণ এবং অ্যালগরিদমের প্রভাব—এই তিনটি বিষয়কে সামনে রেখেই এখন ইউরোপের নীতিনির্ধারণ নতুন দিকে মোড় নিচ্ছে।