রাশিয়ার রাজধানী মস্কোসহ দেশটির এক ডজনের বেশি অঞ্চলে বৃহস্পতিবার ব্যাপক ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইউক্রেন। হামলায় মস্কোর একটি তেল শোধনাগারে আগুন ধরে যায় এবং আকাশে কালো ধোঁয়ার কুণ্ডলী দেখা যায়।
রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার ভোরে ইউক্রেনের ছোড়া মোট ৫৫৫টি ড্রোন ধ্বংস করা হয়েছে। মস্কোর মেয়র সের্গেই সোবিয়ানিন জানিয়েছেন, এর মধ্যে প্রায় ১৮০টি ড্রোন রাজধানী মস্কোর দিকে আসার সময় ভূপাতিত করা হয়।
ইউক্রেন এই হামলার দায় স্বীকার করেছে। দেশটির প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় বলেন, এক সপ্তাহের মধ্যে দ্বিতীয়বারের মতো মস্কোর তেল শোধোনাগার লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। মস্কোর দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত এই শোধনাগারটি রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় জ্বালানি কোম্পানি গ্যাজপ্রমের একটি সহযোগী প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করে।
জেলেনস্কি বলেন, ইউক্রেনের শহর ও জনবসতির ওপর চলমান হামলার জবাব হিসেবেই এই অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। তাঁর ভাষায়, রাশিয়ার ‘যুদ্ধযন্ত্রকে সচল রাখে’—এমন স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।
অন্যদিকে একই রাতে ইউক্রেনের বিভিন্ন অঞ্চলেও দূরপাল্লার হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। ইউক্রেনের সশস্ত্র বাহিনীর জেনারেল স্টাফ জানিয়েছে, রাশিয়া অন্তত সাতটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং ২৩৯টি ড্রোন নিক্ষেপ করেছে। ইউক্রেনের দাবি, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ২১৬টি ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস বা প্রতিহত করেছে।
চার বছরের বেশি সময় ধরে চলমান যুদ্ধের মধ্যে বৃহস্পতিবারের হামলাকে ইউক্রেনের অন্যতম বৃহৎ একরাতের দূরপাল্লার ড্রোন অভিযান হিসেবে দেখা হচ্ছে। ইউক্রেনের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, সংশ্লিষ্ট তেল শোধনাগারটি রুশ সামরিক বাহিনীকে সহায়তা দেওয়ার সঙ্গে যুক্ত থাকায় সেটিকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।