Skip to main content

ট্রাম্পের যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর হরমুজে জাহাজ আটক করেছে ইরান

টিবিএন ডেস্ক

প্রকাশিত: এপ্রিল ২২ ২০২৬, ১৪:৫০

ট্রাম্পের যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর হরমুজে জাহাজ আটক করেছে ইরান
  • 0

ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিম নিউজ জানিয়েছে, সামুদ্রিক আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে রেভ্যুলুশনারি গার্ডস দুইটি জাহাজ আটক করে ইরানি উপকূলে নিয়ে গেছে। ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর এই প্রথম কোনো জাহাজ জব্দ করল ইরান। একই সঙ্গে রেভ্যুলুশনারি গার্ড নৌবাহিনী সতর্ক করে বলেছে, প্রণালীর নিরাপত্তা বা শৃঙ্খলা ব্যাহত হলে তা “রেড লাইন” হিসেবে বিবেচিত হবে।

হরমুজ প্রণালীতে বুধবার দুইটি জাহাজ জব্দ করেছে ইরান। এর মাধ্যমে কৌশলগত এই নৌপথে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ আরও জোরদার করল তেহরান। এর আগে অ্যামেরিকার প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প অনির্দিষ্টকালের জন্য হামলা স্থগিতের ঘোষণা দেন, তবে শান্তি আলোচনা পুনরায় শুরু হওয়ার কোনো লক্ষণ দেখা যায়নি।

ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিম নিউজ জানিয়েছে, সামুদ্রিক আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে রেভ্যুলুশনারি গার্ডস দুইটি জাহাজ আটক করে ইরানি উপকূলে নিয়ে গেছে। ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর এই প্রথম কোনো জাহাজ জব্দ করল ইরান। একই সঙ্গে রেভ্যুলুশনারি গার্ড নৌবাহিনী সতর্ক করে বলেছে, প্রণালীর নিরাপত্তা বা শৃঙ্খলা ব্যাহত হলে তা “রেড লাইন” হিসেবে বিবেচিত হবে।

এর আগে বৃটেইনের সামুদ্রিক নিরাপত্তা সংস্থা ইউকেএমটিও জানিয়েছে, অন্তত তিনটি বাণিজ্যিক জাহাজ গুলিবর্ষণের মুখে পড়ে। একটি কনটেইনার জাহাজের মাস্টার জানান, ওমানের উত্তর-পূর্ব উপকূলের কাছে একটি ইরানি গানবোট তাদের কাছে আসে। পরে জাহাজটিতে গুলি ও রকেটচালিত গ্রেনেড নিক্ষেপ করা হয়। এতে জাহাজের ব্রিজ ক্ষতিগ্রস্ত হলেও হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। আরও দুইটি জাহাজও হামলার শিকার হওয়ার কথা জানিয়েছে।

ডনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় বলেন, পাকিস্তানি মধ্যস্থতাকারীদের অনুরোধে অ্যামেরিকা ইরানের ওপর হামলা আপাতত স্থগিত রেখেছে, যতক্ষণ না তেহরান একটি “সমন্বিত প্রস্তাব” দেয় এবং আলোচনা শেষ হয়। তবে একই সঙ্গে তিনি জানান, সমুদ্রপথে ইরানের বাণিজ্যের ওপর অ্যামেরিকান নৌ অবরোধ চলবে।

গত শনিবার অ্যামেরিকা একটি ইরানি কার্গো জাহাজ আটক করে এবং মঙ্গলবার ভারত মহাসাগরে একটি বড় তেলবাহী ট্যাঙ্কারে অভিযান চালায়। ইরান এটিকে যুদ্ধঘোষণার সমতুল্য বলে দাবি করেছে। তেহরান বলেছে, অবরোধ চলতে থাকলে হরমুজ প্রণালী বন্ধ রাখার নীতি থেকে তারা সরে আসবে না।

এদিকে পাকিস্তান এখনও দুই পক্ষকে আলোচনার টেবিলে আনতে চেষ্টা করছে। ইসলামাবাদের একটি বিলাসবহুল হোটেল সম্ভাব্য বৈঠকের জন্য প্রস্তুত করা হলেও ইরান আনুষ্ঠানিকভাবে আমন্ত্রণ গ্রহণ করেনি এবং অ্যামেরিকান প্রতিনিধি দলও ওয়াশিংটন ছাড়েনি। পাকিস্তানি কর্মকর্তারা বলেছেন, আলোচনা ভেস্তে যাওয়া একটি বড় ধাক্কা হলেও যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে।

তেহরান থেকে ট্রাম্পের ঘোষণার তাৎক্ষণিক কোনো উচ্চপর্যায়ের প্রতিক্রিয়া আসেনি। তবে তাসনিম নিউজ বলছে, ইরান যুদ্ধবিরতি বাড়ানোর অনুরোধ করেনি। দেশটির পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের ঘালিবাফের এক উপদেষ্টা ট্রাম্পের ঘোষণাকে কৌশলগত চাল বলে মন্তব্য করেছেন।

হরমুজ প্রণালী দিয়ে বিশ্বে ব্যবহৃত মোট তেল ও তরলীকৃত গ্যাসের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবাহিত হয়। ফলে এখানে সামরিক উত্তেজনা বাড়লে তা শুধু মধ্যপ্রাচ্য নয়, বৈশ্বিক অর্থনীতি ও জ্বালানি বাজারেও বড় প্রভাব ফেলতে পারে। হামলা স্থগিতের ঘোষণা সাময়িক স্বস্তি দিলেও, নৌ অবরোধ, জাহাজ জব্দ এবং ব্যর্থ কূটনৈতিক প্রচেষ্টা ইঙ্গিত দিচ্ছে—সংকট এখনো দূর হয়নি।