এক কামরার একটি বাড়িতে ভোটার ৪ হাজার ২৭১ জন

টিবিএন ডেস্ক

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ২২ ২০২৫, ৯:১০

এই অদ্ভুত আবিষ্কারে বিস্মিত গ্রামবাসী। ছবি: হিন্দুস্তান টাইমস

এই অদ্ভুত আবিষ্কারে বিস্মিত গ্রামবাসী। ছবি: হিন্দুস্তান টাইমস

  • 0

সরকারি হিসেব মতে, জৈতপুরের মোট ১৬ হাজার ৬৯ জন ভোটারের প্রায় এক-চতুর্থাংশই নাকি ওই এক কামরার ঘরে থাকেন।

ভারতে ভোটার তালিকায় বড় ধরনের গরমিলের অভিযোগ উঠেছে। উত্তরপ্রদেশের মহোবা জেলার জৈতপুর গ্রামপঞ্চায়েতের এক কোণে দাঁড়িয়ে থাকা মাত্র ১৬ বাই ১৫ ফুটের এক কামরার একটি ঘর। ভোটার তালিকা সংশোধনের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাদের খাতায় ৪ হাজার ২৭১ মানুষের ঠিকানা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে এই ঘরটিকে।

মুসলিম মিরর সংবাদমাধ্যমের প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়, আসন্ন ২০২৬ সালের পঞ্চায়েত নির্বাচনের জন্য চলমান এই সংশোধনের সময় বিষয়টি সামনে আসে। এই অদ্ভুত আবিষ্কারে বিস্মিত গ্রামবাসী। সরকারি হিসেব মতে, জৈতপুরের মোট ১৬ হাজার ৬৯ জন ভোটারের প্রায় এক-চতুর্থাংশই নাকি ওই এক কামরার ঘরে থাকেন।

বাড়িটির মালিক এবং প্রতিবেশীরা এই ঘটনায় হতবাক। বাড়ির মালিক বলেন, 'বুথ অফিসার যখন বললেন আমার ঘরে নাকি চার হাজারের বেশি ভোটার আছে, ভেবেছিলাম মজা করছেন।'

কর্মকর্তারা অবশ্য বিষয়টিকে 'ক্লারিক্যাল ভুল' বলে দায় এড়াতে চেয়েছেন। তারা জানান, তিনটি ওয়ার্ডের নাম ভুলবশত বাড়ি নম্বর ৮০৩-এর সঙ্গে যুক্ত হয়ে গেছে।

শুধু জৈতপুর নয়, পানওয়ারি শহরের এক বাড়িতে ২৪৩ জন এবং পাশের বাড়িতে ১৮৫ জনের নাম পাওয়া গেছে। স্থানীয় কর্মী চৌধুরী রবীন্দ্র কুমার, যিনি নিজেও এমন একটি ঘরের মালিক, এই অনিয়মের অভিযোগ প্রথম তোলেন। তিনি বলেন, 'এটা ছোট ভুল নয়। যখন একটি দলিত বাড়িতে শত শত ভোটারের নাম ঠাসা থাকে, তখন সেটা শুধু অবহেলা নয়, বরং মানুষের আস্থা নষ্ট করে।'

এই গরমিলগুলো এমন এক সময়ে ধরা পড়ছে যখন এআই সহায়তায় পরিচালিত যাচাই অভিযানের পর মহোবায় এক লাখেরও বেশি সন্দেহজনক বা পুনরাবৃত্ত ভোটার শনাক্ত হয়েছিল। এসব কাটছাঁট করতে রাজ্য নির্বাচন কমিশন ২৭২টি গ্রামপঞ্চায়েতে ৪৮৬ জন বুথ কর্মকর্তা এবং ৪৯ জন সুপারভাইজারকে দায়িত্ব দিয়েছে।

তবে মানুষের মধ্যে আস্থার সংকট ক্রমেই বাড়ছে। পানওয়ারির এক বাসিন্দা প্রশ্ন করেছেন, 'যদি কর্মকর্তারা হাজার হাজার ভোটারকে এক ঘরে গুঁজে দিতে পারেন, তাহলে আমাদের ভোট নিরাপদ আছে কীভাবে?'