পাবজি খেলা নিয়ে পরিবারের ৪ সদস্যকে হত্যা, অতঃপর…

টিবিএন ডেস্ক

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ২৫ ২০২৫, ১০:৩৬

খেলা নিয়ে হতাশা থেকে সে তার নিজের মা ও তিন ভাইবোনকে হত্যা করে। ছবি: ডেইলি সাবাহ

খেলা নিয়ে হতাশা থেকে সে তার নিজের মা ও তিন ভাইবোনকে হত্যা করে। ছবি: ডেইলি সাবাহ

  • 0

বাড়ি থেকে বেরিয়ে আলি পিস্তলটি পাশের একটি নর্দমায় ফেলে দেয় এবং পরে নিজের ঘরে ফিরে গিয়ে এমন ভান করে যে, ঘটনাটি ঘটার সময় সে ঘুমিয়ে ছিল।

অনলাইন গেম পাবজির প্রতি তরুণদের আসক্তি ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। যার জেরে পরিবারের ৪ সদস্যকে হত্যা করেছে পাকিস্তানের এক কিশোর।

এনডটিভি জানায়, মা, ভাই ও দুই বোনকে নৃশংসভাবে হত্যার দায়ে জাইন আলি নামের এক কিশোরকে ১০০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে দেশটির লাহোর সেশন কোর্ট।

পাশাপাশি অভিযুক্ত কিশোরকে ৪০ লাখ রুপি জারিমানাও করেছেন অতিরিক্ত জেলা ও সেশন বিচারক রিয়াজ আহমেদ ।

অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০২২ সালের জানুয়ারি মাসে লাহোরের কাহনা এলাকার বাসিন্দা জাইন আলি এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘটান। অভিযুক্ত কিশোরের বর্তমান বয়স ১৭ বছর। ঘটনার দিন রাত ২টার দিকে পরিবারের সদস্যদের ওপর গুলি চালায় সে। এতে তার মা, ভাই এবং দুই বোন নিহত হন।

এ ঘটনায় কাহনা থানায় মামলা দায়ের করা হয়। মামলার বিচার চলাকালে প্রসিকিউটর হাবিবুর রহমান সাক্ষী ও প্রমাণ উপস্থাপন করেন।

নিহতরা হলেন, লেডি হেলথ ওয়ার্কার (এলএইচডব্লিউ) নাহিদ মুবারক (৪৫), তার ছেলে তাইমুর সুলতান (২০), কন্যা মাহনূর ফাতিমা (১৫) এবং ছোট মেয়ে জান্নাত (১০)।

পুলিশের দাবি, ঘটনার সময় নিহত নাহিদের ছেলে ১৪ বয়সী আলি জাইন জনপ্রিয় অনলাইন গেম পাবজির নেশায় আসক্ত ছিল। এবং খেলা নিয়ে হতাশা থেকে সে তার নিজের মা ও তিন ভাইবোনকে হত্যা করে।

আলি তার অপরাধ স্বীকারও করে জানায়, সে নিয়মিত নিজের ঘরে বসে দীর্ঘ সময় ধরে পাবজি খেলতো। পুলিশের এক কর্মকর্তার দাবি, ‘গেমে বারবার ব্যর্থ হয়ে তিনি মানসিকভাবে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে।’

ঘটনার দিন ঘণ্টার পর ঘণ্টা খেলেও লক্ষ্য পূরণ করতে না পারায় মায়ের লাইসেন্সকৃত পিস্তল নিয়ে ঘরে ঢুকে প্রথমে ঘুমন্ত অবস্থায় মাকে গুলি করে হত্যা করে। এরপর দুই বোনকে গুলি করে। গুলির শব্দ শুনে বড় ভাই ঘটনা দেখতে গেলে তাকেও গুলি করে হত্যা করে আলি। এরপর উপরের তলায় গিয়ে বিশ্রাম নেয় এবং পরে বাড়ি থেকে বের হয়ে যায়।

বাড়ি থেকে বেরিয়ে আলি পিস্তলটি পাশের একটি নর্দমায় ফেলে দেয় এবং পরে নিজের ঘরে ফিরে গিয়ে এমন ভান করে যে, ঘটনাটি ঘটার সময় সে ঘুমিয়ে ছিল।

ঘটনার পর আলির অস্বাভাবিক নিয়ে সন্দেহ হয় পুলিশের। কয়েকদিন পর্যবেক্ষণের পর এবং তদন্তের পর গ্রেপ্তার করা হয় তাকে। অবশেষে তার বিরুদ্ধেই মামলার অভিযোগ প্রমাণিত হয়।