স্লোভাকিয়ার জ্বালানি সংকট নিরসনে একটি বড় মাইলফলক হিসেবে বৃহস্পতিবার পুনরায় শুরু হয়েছে দ্রুযবা পাইপলাইনের তেল সরবরাহ। কয়েক মাসের দীর্ঘ অচলাবস্থার অবসান ঘটলেও, প্রধানমন্ত্রী রবার্ট ফিকো বিষয়টিকে কেবল কারিগরি ত্রুটির সমাধান হিসেবে দেখছেন না। তার মতে, পাইপলাইনটি আসলে ক্ষতিগ্রস্তই হয়নি; বরং ইউক্রেইন এটিকে ভূ-রাজনৈতিক লড়াইয়ের একটি কৌশলগত হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে আসছিল।
তবে তেল সরবরাহ আবার শুরু হলেও যুদ্ধের ময়দানে অস্থিতিশীল পরিস্থিতির কারণে ইউক্রেইন আবার সরবরাহ বন্ধ করবে কি না, তা নিয়ে সন্দিহান স্লোভাকিয়ার প্রধানমন্ত্রী। বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের তিনি বলেন, “ভোর ২টায় পাইপলাইন খুলে দেয়া থেকে এটি স্পষ্ট যে পাইপলাইনটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি। এটি ভূ-রাজনৈতিক সংগ্রামের একটি হাতিয়ার ছিল।” রবার্ট ফিকো আরো বলেন, “আমি জানি না ভবিষ্যতে এই পাইপলাইন দিয়ে নিয়মিত তেল সরবরাহ অব্যাহত থাকবে কি না, তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে এটি ইউক্রেইন ও ইইউয়ের মধ্যে একটি গুরুতর সম্পর্কের সূচনা করেছে।”
ইউক্রেইনের মাধ্যমে রাশিয়ার তেল সরবরাহ বন্ধের এই ঘটনাটি কয়েক মাস ধরে ইউরোপের জ্বালানি পরিস্থিতিতে তীব্র উত্তেজনার সৃষ্টি করে। তবে বুধবার এই পাইপলাইনে তেল প্রবাহ শুরুর পরই ইইউ’র পক্ষ থেকে ইউক্রেইনের জন্য ৯০ বিলিয়ন ইউরোর ঋণ সংক্রান্ত ভেটো তুলে নেয় হাঙ্গেরি।
এদিকে মস্কো বলছে, বিশ্ববাজারে তেলের দাম স্থিতিশীল রাখতে রাশিয়া তাদের সরবরাহ অব্যাহত রেখেছে। ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ জানিয়েছেন, ইরান যুদ্ধের কারণে বিশ্ব জ্বালানি খাতে যে সংকট তৈরি হয়েছে, তা মোকাবিলায় রাশিয়া যথাযথ ভূমিকা রাখছে।
এদিন নিয়মিত প্রেস বিফ্রিংয়ে পেসকভ বলেন, “রাশিয়া নিয়মিত তেলের জোগান দিয়ে যাচ্ছে এবং বাজারের ভারসাম্য রক্ষার চেষ্টা করছে। বিশ্ববাজারে চাহিদা বাড়ছে অথচ সরবরাহ কমছে, এমন পরিস্থিতিতে আমাদের বাড়তি কোনো উদ্যোগ নেই, আমরা কেবল বর্তমান সরবরাহ ব্যবস্থা স্থিতিশীল রাখার চেষ্টা করছি।”