লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলের ইয়োহমর শহরে আবাসিক এলাকার ওপর ইসরায়েলি বাহিনী অবৈধভাবে সাদা ফসফরাস যুক্ত গোলাবারুদ ব্যবহার করেছে বলে অভিযোগ করেছে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ। সংস্থাটি বলছে, এতে বেসামরিক মানুষের জন্য গুরুতর ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।
মানবাধিকার সংস্থাটির প্রতিবেদনে বলা হয়, ৩ মার্চ ইয়োহমর শহরের আবাসিক এলাকার ওপর সাদা ফসফরাসযুক্ত গোলাবারুদ নিক্ষেপ করা হয়। এতে ওই এলাকায় আগুন ছড়িয়ে পড়ে এবং স্থানীয় সিভিল ডিফেন্স কর্মীরা আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করেন।
সংস্থাটির লেবানন ভিত্তিক গবেষক রামজি কায়িস বলেন, “সাদা ফসফরাসের দাহ্য প্রভাব মৃত্যুর কারণ হতে পারে অথবা এমন গুরুতর দগ্ধ হওয়ার ঘটনা ঘটাতে পারে যা আজীবন ভোগান্তির কারণ হয়।”
হিউম্যান রাইটস ওয়াচ জানিয়েছে, তারা ইয়োহমরের একটি আবাসিক এলাকায় সাদা ফসফরাস ব্যবহারের প্রমাণ হিসেবে আটটি ছবি যাচাই করেছে, যেখানে ওই এলাকায় আগুন নেভানোর চেষ্টা করতে দেখা গেছে উদ্ধারকর্মীদের।
তবে এই অভিযোগ স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
এ বিষয়ে রয়টার্সকে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, লেবাননে সাদা ফসফরাসযুক্ত গোলাবারুদ ব্যবহারের বিষয়ে তারা অবগত নয় এবং বিষয়টি নিশ্চিত করতে পারেনি। সংস্থাটি আরও বলেছে, হিউম্যান রাইটস ওয়াচ যে ভিডিওগুলো উল্লেখ করেছে সেগুলো তারা পর্যালোচনা করেনি, তাই অভিযোগের বিষয়ে মন্তব্য করা সম্ভব নয়।
এদিকে লেবাননের কর্তৃপক্ষও এখনো এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি।
৩ মার্চ ভোরে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী ইয়োহমরসহ দক্ষিণ লেবাননের প্রায় ৫০টি গ্রাম ও শহরের বাসিন্দাদের এলাকা ছাড়ার নির্দেশ দেয়।
লেবাননের ন্যাশনাল কাউন্সিল ফর সায়েন্টিফিক রিসার্চের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৪ সালের জুলাই পর্যন্ত দক্ষিণ লেবাননে সাদা ফসফরাস ব্যবহার করে অন্তত ১৭৫টি হামলার ঘটনা ঘটেছে। এসব হামলায় প্রায় ৬০০ হেক্টরের বেশি কৃষিজমিতে আগুন লাগে।
আন্তর্জাতিক মানবিক আইনে জনবহুল এলাকায় আকাশ থেকে সাদা ফসফরাস ব্যবহারকে অবৈধ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। যদিও নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে যুদ্ধক্ষেত্রে ধোঁয়ার পর্দা তৈরি, লক্ষ্য চিহ্নিত করা বা আলোকসজ্জার কাজে এটি ব্যবহার করা যেতে পারে।
মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলছে, লেবাননে চলমান হামলায় ইতোমধ্যে প্রায় ৪০০ মানুষ নিহত হয়েছে এবং কয়েক লাখ মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়েছে। পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।