মধ্যবর্তী নির্বাচনকে কেন্দ্র করে প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের আইনি হুমকিতে মানসিক চাপে ভুগছেন ক্যালিফোর্নিয়ার নির্বাচনী কর্মকর্তারা। একইসঙ্গে ক্রমাগত হুমকির কারণে নির্বাচনের প্রস্তুতি ও ভোট গণনার কাজ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে বলেও জানিয়েছেন তারা।
সংবাদমাধ্যম এবিসি নিউজ জানায়, শুক্রবার আদালতে দাখিল করা নথিতে এসব অভিযোগের কথা জানান স্থানীয় নির্বাচনী কর্মকর্তারা।
ক্যালিফোর্নিয়ার ভোটার তালিকা নিয়ে ফৌজদারি তদন্তের অংশ হিসেবে চলতি সপ্তাহে স্থানীয় নির্বাচনী কর্মকর্তাদের কাছে গ্র্যান্ড জুরির সমন পাঠিয়েছে ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস-ডিওজে।
আদালতে দেওয়া বিবৃতিতে সান্তা ক্লারা কাউন্টির প্রধান নির্বাচনী কর্মকর্তা ম্যাট মোরালেস বলেন, ফেডারেল সরকারের কর্মকাণ্ড তার ও তার কর্মীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ তৈরি করেছে।
কন্ট্রা কোস্টা কাউন্টির নির্বাচনী কর্মকর্তা ক্রিস্টিন কনেলিও জানান, হুমকির জবাব দিতে গিয়ে তাকে অতিরিক্ত সময় ও শ্রম ব্যয় করতে হচ্ছে। এতে তিনি মানসিক চাপে রয়েছেন।
সান বেনিতো কাউন্টির নির্বাচনী কর্মকর্তা ফ্রান্সিসকো দিয়াজ বলেন, ‘গত সপ্তাহে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের কর্মকর্তারা তাকে বিচারের মুখোমুখি করার হুমকি দিয়ে চিঠি দেন। এরপর তাকে গ্রেপ্তার করা হলে কীভাবে তার দপ্তরের কার্যক্রম চলবে, সে জন্য জরুরি পরিকল্পনা করতে হয়েছে।’
ওই ঘটনায় তার কাউন্টির চারজন ভোটকর্মী শুক্রবার কাজে যোগ দেননি বলেও জানান কর্মকর্তা।
নির্বাচনী কর্মকর্তারা আশঙ্কা করছেন, প্রশাসনের এমন হস্তক্ষেপে কর্মী ও স্বেচ্ছাসেবকেরা দায়িত্ব ছেড়ে দিতে পারেন। এতে ভোট গণনা ও ফলাফল প্রত্যয়নের কাজ ব্যাহত হতে পারে। এ ছাড়া আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের কারণে ভোটকেন্দ্রে কোনো বিশৃঙ্খলা তৈরি হলে তা মোকাবিলায় কর্মীদের নতুন করে প্রশিক্ষণ দিতে হচ্ছে।
এদিকে নির্বাচনী কর্মকর্তাদের হুমকি দেওয়া থেকে জাস্টিস ডিপার্টমেন্টকে আগামী ১৬ নভেম্বর পর্যন্ত বিরত থাকার নির্দেশ দিয়েছেন ফেডারেল বিচারক ট্রিনা থম্পসন। শুক্রবার দেওয়া এ আদেশে বলা হয়েছে, কোনো নিবন্ধিত ভোটারের ভোট দেওয়ার যোগ্যতা নিয়ে অভিযোগের ভিত্তিতে তাঁর ব্যালটের গণনা বন্ধ করতে নির্বাচনী কর্মকর্তাদের ওপর চাপ প্রয়োগ করা যাবে না।