আলোচনায় বক্তা
মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ‘যৌক্তিক সীমাবদ্ধতা’কে দমনের হাতিয়ার করা যাবে না

টিবিএন ডেস্ক

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ৯ ২০২৫, ১:০২

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান অনুষদের কনফারেন্স রুমে গত ৪ সেপ্টেম্বর ‘জনস্তরে সংবিধান চিন্তা’র তৃতীয় পর্বের আয়োজন করা হয়। ছবি: বিআইআরই

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান অনুষদের কনফারেন্স রুমে গত ৪ সেপ্টেম্বর ‘জনস্তরে সংবিধান চিন্তা’র তৃতীয় পর্বের আয়োজন করা হয়। ছবি: বিআইআরই

  • 0

প্রধান বক্তা খালিদ তার বক্তব্যে বিশেষভাবে গুরুত্ব দেন বাংলাদেশের সংবিধানের ৩৯ অনুচ্ছেদের ওপর, যেখানে চিন্তা, বিবেক ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা হয়েছে। একই সঙ্গে এটি আইন দ্বারা আরোপিত ‘যৌক্তিক সীমাবদ্ধতা’র অধীন।

বাংলাদেশের সংবিধানের ৩৯ অনুচ্ছেদে মতপ্রকাশের স্বাধীনতায় যে ‘যৌক্তিক সীমাবদ্ধতা’ আরোপ করা হয়েছে, তাকে দমন নীতির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা যাবে না বলে মন্তব্য করেছেন সাঈদ আহসান খালিদ।

‘জনস্তরে সংবিধান চিন্তা’র তৃতীয় পর্বে এমন অভিমত দেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের এ সহযোগী অধ্যাপক।

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান অনুষদের কনফারেন্স রুমে গত ৪ সেপ্টেম্বর এ পর্বের আয়োজন করা হয়।

এতে প্রধান অতিথি ছিলেন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও আইন অনুষদের ডিন (অতিরিক্ত দায়িত্ব) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ হায়দার আলী। সভাপতিত্ব করেন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের ভারপ্রাপ্ত বিভাগীয় প্রধান ও সহকারী অধ্যাপক মু. আলী মুর্শেদ কাজেম।

তৃতীয় পর্বে স্বাগত বক্তব্য দেন বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব রিসার্চ অ্যান্ড এডুকেশনের (বিআইআরই) পরিচালক জহির উদদীন সোহাগ।

অনুষ্ঠানে আলোচকদের মধ্যে ছিলেন কুবির আইন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক আবু বকর সিদ্দিক, বাংলাদেশ স্টাডি ফোরামের প্রতিষ্ঠাতা কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক, লেখক ও সাংবাদিক সাবিদিন ইব্রাহিম এবং বাংলাদেশ সোসাইটি ফর চেঞ্জ অ্যান্ড অ্যাডভোকেসি নেক্সাসের লিগ্যাল অ্যাডভাইজার নাভিদ নওরোজ শাহ।

এ পর্বের প্রধান বক্তা খালিদ তার বক্তব্যে বিশেষভাবে গুরুত্ব দেন বাংলাদেশের সংবিধানের ৩৯ অনুচ্ছেদের ওপর, যেখানে চিন্তা, বিবেক ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা হয়েছে। একই সঙ্গে এটি আইন দ্বারা আরোপিত ‘যৌক্তিক সীমাবদ্ধতা’র অধীন।

তিনি এ সীমাবদ্ধতার প্রকৃতি, ব্যাপ্তি ও যৌক্তিকতার পাশাপাশি এর প্রয়োজন, অপ্রয়োজন ও অপব্যবহার তুলে ধরেন।

তার ভাষ্য, মৌলিক অধিকারের ওপর আরোপিত আইনি সীমাবদ্ধতা কখনোই স্বৈরাচারিতা বা দমন নীতির হাতিয়ার হতে পারে না। এটি হওয়ার কথা নাগরিকদের অধিকারের রক্ষাকবচ।

এ পর্বের শিরোনাম ছিল ‘মতামত প্রকাশের অধিকারের পরিসীমা: বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে সার্বজনীন অধিকারের প্রয়োগ’।

পর্বের শুরুতে শিক্ষার্থীরা অতিথিদের ফুল দিয়ে বরণ করে নেন।

স্বাগত বক্তব্যে জহির উদদীন সোহাগ ‘জনস্তরে সংবিধান চিন্তা’ নামের আলোচনা সিরিজ শুরুর কারণ ব্যাখ্যা করেন।

তিনি মনে করেন, সংবিধান শুধু আইনের শিক্ষার্থীদের বিষয় নয়; বরং সব নাগরিকের বিষয়।

এ পর্বে আগের পর্বগুলোর মতো অংশগ্রহণকারীরা তাদের মতামত তুলে ধরার সুযোগ পান।

অনুষ্ঠানে নাভিদ নওরোজ শাহ তার বক্তব্যে বলেন, ‘আইনকে চাইলে জনগণকে অত্যাচারের জন্য বা দমিয়ে রাখার জন্য ব্যবহার করতে পারি, কিন্তু আইনজীবীদের এবং আইনের ছাত্রদের কাজ হবে জনগণের মুক্তির জন্য আইনকে ব্যবহার করা।’

আবু বকর সিদ্দিক মাসুম বলেন, ‘আমরা অধিকারের সাথে দায়িত্বের জায়গায় অবশ্যই খেয়াল রাখব এবং অধিকার চর্চা এমনভাবেই করতে হবে যেন আরেকজনের অধিকার লঙ্ঘন না হয়।’