বিশ্ববাজারে সরবরাহের জন্য বাণিজ্যিক তেলের মজুত এখন তলানিতে পৌঁছেছে। এর ফলে তেলের বাজার আরও নাজুক এবং দামের ওপর উর্ধ্বমুখী চাপ সৃষ্টি হতে যাচ্ছে।
চলতি সপ্তাহে ব্রিটেনের রাজধানী লন্ডনে আয়োজিত এক সম্মেলনে এ কথা জানান তেল নির্ভর শিল্পখাতের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি সৌদি আরামকোর প্রধান নির্বাহী আমিন নাসের জানান, বিশ্ববাজারে তেল সরবরাহের জন্য এখন ৬ বিলিয়ন ব্যারেল পরিমাণেরও কম তেল মজুত আছে। মজুতকৃত তেলও আবার পুরোপুরি সরবরাহ করা সম্ভব নয়।
এ বছর চলমান রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ এবং মধ্যপ্রাচ্যে ইরান যুদ্ধকে ঘিরে বিশ্বব্যাপী তেলের এ সংকট তৈরি হয়েছে। সংকট কাটাতে বিভিন্ন দেশের সরকার ও তেল কোম্পানিগুলো নিজস্ব মজুদ থেকে তেল ছাড়লেও ঘাটতি বিশেষ পূরণ হয়নি।
নাসের জানান, চলতি বছর যুদ্ধ চলাকালীন স্থলভিত্তিক বাণিজ্যিক মজুত থেকে ১ বিলিয়ন ব্যারেলেরও বেশি তেল বাজারে সরবরাহ করা হয়েছে, যা ছিল সংকট মোকাবিলায় হাতে থাকা সর্বশেষ হাতিয়ার।
এদিকে, গত মার্চ মাসে ৪০০ মিলিয়ন তেল বাজারে সরবরাহের ঘোষণা দিয়েছিল পশ্চিমা দেশগুলোর তেলবাজার পর্যবেক্ষক ও সমন্বয়কারী সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল এনার্জি এজেন্সি- আইইএ। তবে ঘোষণা অনুযায়ী তেল এখনও বাজারে না পৌঁছালে সম্প্রতি মাত্র ১০০ মিলিয়ন ব্যারেল তেল সরবরাহের নতুন একটি ঘোষণা দেয়া হয়।
অন্যদিকে, আইইএর তথ্য অনুযায়ী বিশ্বব্যাপী দৈনিক তেলের চাহিদাই ১০২ মিলিয়ন ব্যারেল। এ অবস্থায় বৈশ্বিক তেলের বাজার স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে কয়েক বছর লেগে যেতে পারে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।