প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সাথে নেতানিয়াহুর বৈঠকের প্রধান এজেন্ডা ‘ইরান’
- 0


প্রকাশিত: জুলাই ২৭ ২০২৬, ১৫:১৩
ইরানকে ঘিরে সামরিক উত্তেজনা, গাযার ভবিষ্যৎ এবং মধ্যপ্রাচ্যে নতুন কূটনৈতিক সমীকরণ—এসব ইস্যুকে সামনে রেখে অ্যামেরিকার প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক করতে সোমবার ওয়াশিংটনের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনজামিন নেতানিয়াহু। যাত্রার আগে তিনি জানান, বৈঠকের প্রধান আলোচ্য বিষয় হবে ইরান।
ওয়াশিংটনে পৌঁছে ট্রাম্পের সঙ্গে মুখোমুখি বৈঠকে বসবেন নেতানিয়াহু। চলতি বছর ফেব্রুয়ারির পর এটি দুই নেতার প্রথম সরাসরি সাক্ষাৎ। ফেব্রুয়ারির সেই বৈঠকের পরই ইসরাইল ও অ্যামেরিকা যৌথভাবে ইরানের বিরুদ্ধে বিমান অভিযান শুরু করেছিল।
দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় ফেরার পর ট্রাম্পের সঙ্গে এটি নেতানিয়াহুর অষ্টম বৈঠক।
ওয়াশিংটনের উদ্দেশে রওনা হওয়ার আগে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় নেতানিয়াহু বলেন, বর্তমান পরিস্থিতি অত্যন্ত জটিল। তাই একই সঙ্গে দৃঢ়তা ও বিচক্ষণতার সঙ্গে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। তিনি জানান, বৈঠকে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হলেও সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাবে ইরান। পাশাপাশি ইসরাইলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং আঞ্চলিক শান্তির পরিধি আরও সম্প্রসারণের বিষয়েও আলোচনা হবে।
সম্প্রতি অ্যামেরিকার দুই সপ্তাহের বোমা হামলার জবাবে ইরান অ্যামেরিকান সামরিক ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে হামলা চালায়। পরে সপ্তাহান্তে ট্রাম্প ওই সামরিক অভিযান স্থগিতের ঘোষণা দেন। এর পর ইরানও জানায়, অ্যামেরিকার বিরতি অব্যাহত থাকলে তারাও পাল্টা হামলা বন্ধ রাখবে। তবে ইসরাইল স্পষ্ট করে দিয়েছে, ইরানের যেকোনো নতুন হামলার জবাব কঠোরভাবে দেওয়া হবে।
সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে নেতানিয়াহু স্বীকার করেছেন, মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন ইস্যুতে তার এবং ট্রাম্পের মধ্যে কিছু মতপার্থক্য তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে অঞ্চলটিতে অ্যামেরিকা ও ইসরাইলের কৌশলগত অগ্রাধিকারের পার্থক্য সেই দূরত্ব আরও স্পষ্ট করেছে।
জুন মাসে দুই নেতার মধ্যে হওয়া এক উত্তপ্ত টেলিফোন আলাপের বিষয়ও প্রকাশ্যে আসে। পরে ট্রাম্প নিজেই নিশ্চিত করেন যে, সেই কথোপকথনে তিনি নেতানিয়াহুকে কঠোর ভাষায় সমালোচনা করেছিলেন। ঘটনাটি দুই নেতার সম্পর্কের টানাপোড়েনকে প্রকাশ্যে নিয়ে আসে।
তবে বৈঠকের আগে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার ইঙ্গিতও মিলেছে। রোববার ইসরাইল জানায়, ট্রাম্পের প্রস্তাবিত শান্তি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে গাযায় একটি বহুজাতিক নিরাপত্তা বাহিনী প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে। এছাড়া ২১ জুলাই দক্ষিণ লেবাননে মোতায়েন করা কিছু সেনা পুনর্বিন্যাসের ঘোষণাও দেয় ইসরাইল, যা সাম্প্রতিক অ্যামেরিকান-সমর্থিত সমঝোতার অংশ।
বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের বার্তা তুলে ধরা নেতানিয়াহুর জন্য অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ। আগামী ২৭ অক্টোবরের নির্বাচনের আগে জনমত জরিপে চাপে থাকা ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী এই বৈঠকের মাধ্যমে কূটনৈতিক সাফল্যের বার্তা দিতে চাইছেন। অন্যদিকে ইরান, গাযা এবং মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের পরবর্তী পদক্ষেপ সম্পর্কেও এই বৈঠককে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
