‘আই অ্যাম দ্যা বস’-জি-৭ সম্মেলনে দাবি করেছেন ট্রাম্প

টিবিএন ডেস্ক
প্রকাশিত: জুন ১৭ ২০২৬, ১৭:০১
- 0
ফ্রান্সের এভিয়ান-লে-ব্যাঁ শহরে অনুষ্ঠিত জি-৭ সম্মেলনে বিশ্বনেতাদের সামনে প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের একটি মন্তব্য ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বৈশ্বিক অর্থনৈতিক নিরাপত্তা বিষয়ক এক অধিবেশনে অংশ নিতে গিয়ে তিনি হাস্যরসের ছলে বলেন, “আই অ্যাম দ্যা বস”।
ফ্রান্সের এভিয়ান-লে-ব্যাঁ শহরে অনুষ্ঠিত জি-৭ সম্মেলনে বিশ্বনেতাদের সামনে প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের একটি মন্তব্য ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বৈশ্বিক অর্থনৈতিক নিরাপত্তা বিষয়ক এক অধিবেশনে অংশ নিতে গিয়ে তিনি হাস্যরসের ছলে বলেন, “আই অ্যাম দ্যা বস”।
ট্রাম্পের এই মন্তব্য এমন এক সময়ে এলো, যখন ইউক্রেন যুদ্ধ, ইরানের সঙ্গে শান্তি আলোচনা এবং বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খল নিয়ে পশ্চিমা দেশগুলোর মধ্যে নতুন সমন্বয়ের চেষ্টা চলছে।
সম্মেলনের শেষ দিনে জি-৭ নেতারা একটি যৌথ বিবৃতি প্রকাশ করেন, যেখানে ইউক্রেনের প্রতি সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করা হয় এবং রাশিয়ার বিরুদ্ধে নতুন নিষেধাজ্ঞার অঙ্গীকার করা হয়। পর্যবেক্ষকদের মতে, এই অবস্থান ভবিষ্যতে মস্কোর সঙ্গে সম্ভাব্য শান্তি আলোচনায় কিয়েভের অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করতে পারে।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি সম্মেলনে অংশ নিয়ে পশ্চিমা নেতাদের বোঝানোর চেষ্টা করেন যে ইউক্রেনের সামরিক পাল্টা অভিযান ফল দিচ্ছে এবং রাশিয়া এখন শান্তি চুক্তির শর্ত একতরফাভাবে নির্ধারণ করার অবস্থানে নেই।
ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমান্যুয়েল ম্যাক্রোঁ বলেন, ইউক্রেন ইস্যুতে অ্যামেরিকার অবস্থানে “বাস্তব পরিবর্তন” দেখা গেছে। তার ভাষায়, সম্মেলনটি ছিল “সফল”। গত বছরের জি-৭ সম্মেলনের বিপরীতে এবার ইউক্রেন প্রশ্নে একটি অভিন্ন অবস্থান নিতে পেরেছেন নেতারা।
ইটালির প্রধানমন্ত্রী জর্জা মেলোনি বলেন, ট্রাম্পের সঙ্গে একটি অভিন্ন অবস্থানে পৌঁছানো সম্ভব হয়েছে। একই ধরনের মন্তব্য করেছেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি, যিনি ইউক্রেন ইস্যুতে ওয়াশিংটনের অবস্থান পরিবর্তনের প্রশংসা করেন।
এদিকে ইরানের সঙ্গে অ্যামেরিকার সাম্প্রতিক অন্তর্বর্তী শান্তি চুক্তিকেও স্বাগত জানিয়েছেন জি-৭ নেতারা। তারা জানিয়েছেন, চুক্তি বাস্তবায়নে প্রয়োজন হলে সহযোগিতা করতে প্রস্তুত রয়েছে পশ্চিমা দেশগুলো।
তবে ট্রাম্প স্পষ্ট করে দিয়েছেন, ইরানের সঙ্গে হওয়া সমঝোতা এখনও চূড়ান্ত নয়। সম্মেলনে তিনি বলেন, চুক্তির শর্ত মানা না হলে অ্যামেরিকা আবারও সামরিক পদক্ষেপ নিতে পারে।
ট্রাম্পের ভাষায়, “যদি আমি এটা পছন্দ না করি, যদি তারা ঠিকমতো আচরণ না করে, তাহলে আমরা আবারও বোমা হামলা শুরু করব।”
যদিও ইউরোপীয় দেশগুলো প্রকাশ্যে চুক্তিকে সমর্থন জানিয়েছে, কূটনৈতিক সূত্রগুলো সতর্ক করে বলছে, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা এবং মধ্যপ্রাচ্যের প্রক্সি গোষ্ঠীগুলোর প্রতি সমর্থন নিয়ে স্থায়ী সমাধানে পৌঁছানো সহজ হবে না।
একই সঙ্গে জি-৭ নেতারা বৈশ্বিক গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সম্পদের সরবরাহে চায়নার ওপর নির্ভরতা কমানোর বিষয়ে নতুন উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। প্রতিরক্ষা, প্রযুক্তি এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে ব্যবহৃত গুরুত্বপূর্ণ খনিজের বিকল্প উৎস গড়ে তুলতে সদস্য দেশগুলো সমন্বিতভাবে কাজ করবে।
এ লক্ষ্যে কৌশলগত মজুত গঠন, সরবরাহ ব্যবস্থার সমন্বয় এবং ইন্টারন্যাশনাল এনার্জি এজেন্সি এর ভূমিকা সম্প্রসারণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পশ্চিমা দেশগুলো মনে করছে, গুরুত্বপূর্ণ খনিজের ক্ষেত্রে চায়নার আধিপত্য তাদের অর্থনৈতিক ও জাতীয় নিরাপত্তার জন্য দীর্ঘমেয়াদে ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
সম্মেলনে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই নিয়েও আলোচনা হয়েছে। প্রযুক্তি খাতের শীর্ষ ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে এআই-নির্ভর বট ও এজেন্টের দায়বদ্ধতা, তথ্যের সত্যতা যাচাই এবং ভবিষ্যৎ নিয়ন্ত্রণ কাঠামো নিয়ে মতবিনিময় করেন নেতারা। আলোচনায় অংশ নেন স্যাম অল্টম্যান এবং দারিও আমোদেইসহ প্রযুক্তি খাতের শীর্ষ নির্বাহীরা।

