শিক্ষাখাতে সংকট, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি ও সরকারি সেবাখাতের মান কমে যাওয়ার প্রতিবাদে ফ্রান্সে চলমান বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে উপহাস করেছেন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প।
দেশটির দীর্ঘ বিপ্লব, বিক্ষোভের ইতিহাসকে ব্যাঙ্গ করে ট্রাম্প বলেছেন, ফ্রান্স একটি চমৎকার জায়গা। কোনো দাঙ্গা নেই, বিপ্লব নেই।
জর্জিয়া স্টেইটের ডালটনে গত শুক্রবার(১৬ অক্টোবর) মধ্যবর্তী নির্বাচনের প্রচারণায় দেয়া বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
রিপাবলিকান পার্টির জন্য প্রচারকালে ট্রাম্প তার বক্তব্যে জানান, কংগ্রেসের উভয় কক্ষে দলটি জয়ী হলে প্রাপ্তবয়স্ক অ্যামেরিকানরা এককালীন ৫ হাজার ডলার অর্থ উপহার পাবেন।
পরে আবার ফ্রান্সকে কটাক্ষ করে বলেন, যারা ওই অর্থ পাবেন তারা সেটা দিয়ে ফ্রান্সের বিক্ষোভে যোগ দিতে যেতে পারেন।
ট্রাম্প বলেন, ‘ডার্লিং, প্রেসিডেন্ট আমাদের মাত্রই ৫ হাজার ডলার পাঠিয়েছেন চলো ফ্রান্সে যাই।‘
তারপর ট্রাম্প আবারো বলেন, ফ্রান্স বিক্ষোভ, বিপ্লবের জন্যই উপযুক্ত জায়গা’।
তিনি পরে গম্ভীর ভঙ্গিতে বলেন, উপহারের ওই অর্থ অ্যামেরিকার ভিতরেই খরচ করতে হবে। ফ্রান্সের মতো দেশে কোনোভাবেই খরচ করার সুযোগ নেই।
শিক্ষাখাতে শিক্ষক সংকট, শিক্ষা ভবনের মান উন্নয়ন ও অর্থায়ন বৃদ্ধির দাবিতে শুরু হওয়া শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভটি প্রায় ৩ সপ্তাহের বেশি গড়িয়েছে। শিক্ষার্থীদের সঙ্গে শিক্ষক অভিভাবন শ্রমিক ইউনিয়নের নেতৃবৃন্দ ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দল যোগ দেওয়ার পর, তা আরও তীব্র আকার ধারণ করে।
বিক্ষোভকারী শিক্ষার্থীদের ওপর ফ্রান্সের পুলিশী হামলার অভিযোগের পাশাপাশি এখন পর্যন্ত ৬০০০ হাজারের বেশি মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
বিক্ষোভটি দাঙ্গায় রূপ নেওয়ায় শনিবার ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসসহ বড় বড় শহরের সরকারি ভবন, সড়ক ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে আগুন ধরিয়ে দেওয়া ও প্রচুর ভাঙচুর করা হয়।
বিক্ষোভটি শুরু হওয়ার পরপর চলমান অবস্থার জন্য ইসলাম ও অভিবাসীদের দায়ী করেছিলেন ট্রাম্প।
তার দাবি, এটি নিছক কোনো শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ নয়। এর আড়ালে মুসলিমরা ফ্রান্সে নিজেদের প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছেন।
একইসঙ্গে বৈচিত্রপূর্ণ ও সহানুভূতির নীতিতে বিশ্বাসী ফ্রান্স প্রচুর অভিবাসন প্রত্যাশিদের আশ্রয় দিলেও, তাদের নিজ দেশের সংস্কৃতির সাথে একত্রীভূত করতে পারেনি বলেও অভিযোগ করেছিলেন তিনি। তবে ট্রাম্প এ দাবির কোনো প্রমাণ কিংবা সত্যতা উপস্থাপন করেননি।