ড্রাগ গ্যাংয়ের ফাঁদে পড়ে আর্জেন্টিনায় গত ১৯ সেপ্টেম্বর নৃশংসভাবে হত্যার শিকার হন মোরেনা ভার্দি, ব্রেন্ডা দেল কাস্তিল্লো এবং লারা গুতিয়েরেজ নামে তিন তরুণী।
বার্তা সংস্থা এএফপি জানায়, ১৯ তারিখে পার্টিতে যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বেরিয়েছিলেন ওই তিনজন। পরে তাদের ড্রাগের প্রলোভন দেখিয়ে একটি ভ্যানে তোলা হয়। নিখোঁজ হওয়ার পাঁচ দিন পর, বুধবার বুয়েনস আইরেসের দক্ষিণ উপশহরের একটি বাড়ির উঠোনে মোরেনা ভার্দি এবং ব্রেন্ডা দেল ক্যাস্টিলো, তার ২০ বছর বয়সী চাচাতো ভাই এবং ১৫ বছর বয়সী লারা গুতেরেসের মৃতদেহ পাওয়া যায়।
পুলিশ কর্মকর্তারা জানায়, মাদক চক্রের সাথে জড়িত এই হত্যাকাণ্ডটি ইনস্টাগ্রামে লাইভে সংঘটিত হয়। প্রথমে একটি ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্ট থেকে প্রায় ৪৫ জন এই ভয়াবহ দৃশ্য দেখেন।
বুয়েনস আইরেস প্রদেশের নিরাপত্তামন্ত্রী জাভিয়ের আলোনসোর মতে, আটককৃতদের একজন জিজ্ঞাসাবাদের সময় পুলিশ ভিডিওটি আবিষ্কার করে।
ফুটেজে একজন গ্যাং লিডারকে বলতে শোনা যায়, যারা আমার কাছ থেকে মাদক চুরি করে তাদের সাথে এই রকমই হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, এই হত্যাকাণ্ডের উদ্দেশ্য ছিল ‘গ্যাং কোড ভঙ্গের শাস্তি’ এবং অন্যদের জন্য সতর্কবার্তা দেওয়া।
ইনস্টাগ্রামের প্যারেন্ট কোম্পানি মেটা এই লাইভ সম্প্রচার হওয়ার তথ্য অস্বীকার করেছে। তারা বলছে, লাইভ সম্প্রচারটি ইনস্টাগ্রামে হয়েছে এমন কোন প্রমাণ তারা পায়নি। তদন্ত কাজে প্রতিষ্ঠানটি পুলিশকে সহায়তা চালিয়ে যাচ্ছে বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করেছে মেটা।
আর্জেন্টিনার সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে যে নির্যাতনকারীরা ভুক্তভোগীদের আঙুল কেটে ফেলেছে, নখ উপড়ে ফেলেছে, মারধর করেছে এবং শ্বাসরোধ করে হত্যা করেছে।
দেশটির ন্যাশনাল সিকিউরিটি মিনিস্টার প্যাট্রিসিয়া বুলরিচ শুক্রবার জানান, এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে এ পর্যন্ত ২জন নারীসহ ৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
তবে কর্তৃপক্ষ এক বিবৃতিতে জানায়, এই চক্রান্তের কথিত মূল পরিকল্পনাকারী, ২০ বছর বয়সী পেরুভিয়ান ব্যক্তি এখনও পলাতক। তাকে ধরতে সামাজিক মাধ্যমে তার একটি ছবি প্রকাশ করা হয়েছে।
তরুণীদের নির্যাতন ও হত্যার ঘটনা সামাজিক মাধ্যমে সম্প্রচারের বিষয়টি হতবাক করেছে আর্জেন্টিনাকে। শনিবার বুয়েনস আইরেসের রাস্তায় হাজার হাজার বিক্ষোভকারী তিন তরুণীর নির্যাতন ও হত্যার বিচার দাবিতে বিক্ষোভ করেছেন।