চুক্তির দ্বারপ্রান্তে অ্যামেরিকা-ইরান, তেহরানে ঝটিকা সফরে পাক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও সেনাপ্রধান
- 0


প্রকাশিত: মে ২২ ২০২৬, ১৫:৪৯
দীর্ঘ অচলাবস্থার পর অবশেষে আলোর মুখ দেখতে যাচ্ছে অ্যামেরিকা ও ইরানের মধ্যকার শান্তি আলোচনা। শুক্রবার অ্যামেরিকা-ইরান যুদ্ধ বন্ধে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় একটি সম্ভাব্য চুক্তির ‘চূড়ান্ত খসড়া’ প্রকাশ করেছে সৌদি সংবাদমাধ্যম আল-আরাবিয়া। ৯ দফার এই খসড়া চুক্তিটি যেকোনো মুহূর্তে ঘোষণা হতে পারে বলে জানা গেছে।
সৌদি সংবাদ সংস্থা আল-আরাবিয়ার দাবি, ৯ দফার এই অন্তর্বর্তীকালীন চুক্তির প্রধান শর্ত হলো— জল, স্থল ও আকাশপথসহ সব ফ্রন্টে অবিলম্বে সর্বাত্মক ও নিঃশর্ত যুদ্ধবিরতি। এছাড়া কেউ কারো সামরিক, বেসামরিক বা অর্থনৈতিক অবকাঠামোতে আঘাত করবে না এবং বন্ধ থাকবে পারস্পরিক মিডিয়া যুদ্ধ। হরমুজ প্রণালী, ওমান ও আরব উপসাগরে নৌ চলাচলের স্বাধীনতার নিশ্চয়তা দেয়ার পাশাপাশি সার্বভৌমত্বের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকার অঙ্গীকার করা হয়েছে এই খসড়ায়।
আল আরাবিয়ার প্রতিবেদনে বলা হয়, চুক্তিটি কার্যকর হওয়ার সাত দিনের মধ্যে অনির্দিষ্ট ‘অমীমাংসিত বিষয়গুলো’ নিয়ে আলোচনা শুরু করতে হবে। এই কূটনৈতিক প্রক্রিয়াকে চূড়ান্ত রূপ দিতেই জোরদার তৎপরতা চালাচ্ছে ইসলামাবাদ। চলতি সপ্তাহের ১৬ ও ১৭ মে প্রথম দফায় অঘোষিত সফরের পর, বুধবার পুনরায় তেহরান সফর শুরু করেছেন পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নাকভি। এরইমধ্যে বৈঠক করেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির সাথে। পাশাপাশি পাকিস্তানের সেনাপ্রধান জেনারেল অসিম মুনিরও দ্বিতীয় দফায় তেহরান সফরে পৌঁছেছেন। ইরান জানিয়েছে, তারা ওয়াশিংটনের সর্বশেষ প্রতিক্রিয়া পর্যালোচনা করছে।
এদিকে সুইডেনের হেলসিংবর্গে নেইটো প্রধানের সাথে বৈঠকের পর স্টেইট সেক্রেটারি মার্কো রুবিও জানিয়েছেন, ইরানের সাথে একটি চুক্তিতে পৌছাতে কিছুটা অগ্রগতি হয়েছে, তবে তিনি বিষয়টিকে এখনই অতিরঞ্জিত করতে চান না বলে মন্তব্য করেন। রুবিও বলেন, ‘‘ইরান ইস্যুতে আজ সকালের খবরের বিষয়ে বলতে পারি— আমি জানি অ্যামেরিকায় এখন খুব ভোর, তবে মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে সময়টা আরেকটু পরের। সেখানে যে আলোচনা চলছে, আমরা তার ফলাফলের অপেক্ষায় আছি। এই আলোচনায় সামান্য অগ্রগতি হয়েছে। আমি বিষয়টিকে এখনই অতিরঞ্জিত করতে চাই না, তবে কিছুটা অগ্রগতি হয়েছে এবং সেটা ভালো লক্ষণ। তবে আমাদের মৌলিক অবস্থান একই থাকছে; ইরান কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে পারবে না। এটা কোনোভাবেই হতে পারে না... এই শাসনগোষ্ঠী কখনোই পারমাণবিক অস্ত্রের অধিকারী হতে পারবে না। আর তা নিশ্চিত করতে হলে, আমাদের অবশ্যই ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ এবং উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের বিষয়টি মোকাবিলা করতে হবে।’’
হরমুজ প্রণালীর বিষয়ে রুবিও বলেন, ‘‘ইরান সেখানে একটি টোল ব্যবস্থা বা শুল্ক আদায়ের প্রক্রিয়া চালুর চেষ্টা করছে। এটা কোনোভাবেই হতে দেওয়া যায় না। হরমুজ প্রণালীতে যদি এমনটা ঘটতে দেওয়া হয়, তবে বিশ্বের আরও পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় একই ঘটনা ঘটবে।’’
চুক্তি বাস্তবায়নে ৭ দিনের মধ্যে অমীমাংসিত বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনার কথা থাকলেও, ইরানের পরমাণু কর্মসূচি বন্ধ বা ৬০ শতাংশ সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম রপ্তানির মতো ওয়াশিংটনের দাবিগুলো এই খসড়ায় স্পষ্ট নয়। তবে এর মধ্যেই হরমুজ প্রণালী দিয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় ইরানের অনুমতি নিয়ে ৩৫টি জাহাজ নিরাপদে পার হয়েছে। এরমধ্যে ইরানের একটি ট্যাঙ্কারে ইউএস নৌবাহিনী আরোহনের পরও নিরাপদে ছেড়ে দেয়ার ঘটনা দুই পক্ষের কূটনীতিতে অগ্রগতির দিকেই ইশারা করছে।
এছাড়া তেহরানে আল জাজিরার সাংবাদিক রেসুল সেরদার আতাস জানিয়েছেন, পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নাকভির পর সেনাপ্রধান অসিম মুনিরের তেহরান সফরটি নির্ভর করছিলো চুক্তির বিষয়ে অগ্রগতির ওপর। এরইমধ্যে পাক সেনাপ্রধানের তেহরান সফর সেদিকেই ইশারা করছে বলে জানান আল জাজিরার এই সাংবাদিক।
