ভিয়েতনাম-ইরাক যুদ্ধের মতোই জনপ্রিয়তা হারিয়েছে ট্রাম্পের ইরান যুদ্ধ
- 0


প্রকাশিত: মে ১ ২০২৬, ১৬:৩৪
ইরানকে ঘিরে ট্রাম্প প্রশাসনের সামরিক অভিযান অ্যামেরিকানদের মধ্যে ব্যাপক অজনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। নতুন এক জরিপে দেখা গেছে, অধিকাংশ নাগরিক এই যুদ্ধকে ভুল সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখছেন। একই সঙ্গে বাড়ছে অর্থনৈতিক চাপ, জ্বালানি মূল্য এবং নিরাপত্তা উদ্বেগ।
ওয়াশিংটন পোস্ট-এবিসি নিউজ-ইপসোস জরিপ অনুযায়ী, ৬১ শতাংশ অ্যামেরিকান মনে করেন ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক শক্তি ব্যবহার করা ট্রাম্পের ভুল সিদ্ধান্ত ছিল। প্রায় ৪০ শতাংশ বলছেন এটি ব্যর্থ, আর সমানসংখ্যক মনে করেন এখনই ফলাফল মূল্যায়ন করা সম্ভব নয়।
এই পরিসংখ্যান ইঙ্গিত দিচ্ছে—মাত্র দুই মাসের মধ্যেই এই যুদ্ধ ভিয়েতনাম ও ইরাক যুদ্ধের মতো অজনপ্রিয়তায় পৌঁছে গেছে। যেখানে ইরাক যুদ্ধে এমন পর্যায়ে পৌঁছাতে কয়েক বছর সময় লেগেছিল। বিশ্লেষকরা বলছেন, এত দ্রুত নেতিবাচক জনমত তৈরি হওয়া সাম্প্রতিক ইতিহাসে বিরল।
তবে রাজনৈতিক বিভাজন স্পষ্ট। রিপাবলিকানদের মধ্যে ৭৯ শতাংশ এখনো এই সিদ্ধান্তকে সমর্থন করছেন। অন্যদিকে ডেমোক্র্যাট ও স্বতন্ত্র ভোটারদের বড় অংশ শান্তিচুক্তির পক্ষে ঝুঁকছেন—যদি তা অ্যামেরিকার জন্য কম সুবিধাজনক হয় তার পরও। স্বাধীন ভোটারদের মধ্যে প্রায় অর্ধেকের বেশি আপসের মাধ্যমে সমাধান চান।
যুদ্ধের অর্থনৈতিক প্রভাবও বাড়ছে। প্রায় ৬০ শতাংশ অ্যামেরিকান মনে করছেন এই সামরিক পদক্ষেপ দেশকে মন্দার দিকে ঠেলে দিতে পারে। ৪ জনের মধ্যে ১ জন বলছেন জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ায় তারা কম গাড়ি ব্যবহার করছেন এবং খরচ কমাচ্ছেন। তিনজনের মধ্যে একজন ভ্রমণ বা ছুটির পরিকল্পনা বাতিল করেছেন।
ফেব্রুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত আর্থিকভাবে পিছিয়ে পড়ার কথা বলছেন এমন মানুষের সংখ্যা বেড়ে ১৭ শতাংশ থেকে ২৩ শতাংশে পৌঁছেছে। একইভাবে, ট্রাম্প ক্ষমতায় আসার পর নিজেদের অবস্থার অবনতি হয়েছে বলে মনে করেন এমন মানুষের হার ৩৩ শতাংশ থেকে বেড়ে ৪০ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।
নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে। ৬১ শতাংশ মনে করছেন, এই যুদ্ধের কারণে অ্যামেরিকানদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী হামলার ঝুঁকি বেড়েছে। ৫৬ শতাংশ মনে করছেন, এর ফলে মিত্র দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক দুর্বল হতে পারে, বিশেষ করে ইউরোপিয়ান অংশীদারদের সঙ্গে।
যুদ্ধের মূল লক্ষ্য—ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি থামানো। আর এই লক্ষ্য নিয়েও সন্দেহ রয়েছে। ৬৫ শতাংশ অ্যামেরিকান মনে করেন না যে কোনো সম্ভাব্য চুক্তি ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি থেকে থামাতে পারবে।
এদিকে ট্রাম্প প্রশাসন জানিয়েছে, তারা স্বল্পমেয়াদি অর্থনৈতিক চাপ মেনে নিতে প্রস্তুত। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেছেন, ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র থেকে বিরত রাখতে এই পদক্ষেপ প্রয়োজন। তবে তিনি একই সঙ্গে দাবি করেছেন, শিগগিরই একটি চুক্তি হতে পারে।
বর্তমানে যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও বাস্তব পরিস্থিতি পুরোপুরি স্থিতিশীল নয়। হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচল সীমিত রয়েছে এবং বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে চাপ অব্যাহত রয়েছে।
মাত্র দুই মাসের মাথায় ইরান যুদ্ধ নিয়ে যে নেতিবাচক জনমত তৈরি হয়েছে, তা ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য বড় রাজনৈতিক ঝুঁকি হয়ে উঠছে। অর্থনৈতিক চাপ, নিরাপত্তা উদ্বেগ এবং কূটনৈতিক অচলাবস্থা, সব মিলিয়ে এই যুদ্ধ এখন শুধু পররাষ্ট্রনীতি নয়—বরং অভ্যন্তরীণ রাজনীতির বড় ইস্যুতেও পরিণত হয়েছে।
