ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকারের প্রণীত ডেটা সুরক্ষা আইন সাংবাদিকতার স্বাধীনতা খর্ব করতে পারে বলে অভিযোগ তুলেছে দেশটির ২১টি সংবাদমাধ্যম। আইনটির কয়েকটি বিধান চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছে সংবাদমাধ্যমগুলোর সংগঠন ডিজিটাল নিউজ পাবলিশার্স অ্যাসোসিয়েশন (ডিএনপিএ)।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) শুনানিতে সংবাদমাধ্যমগুলোর আইনজীবী দাবি করেন, আইনটি কার্যকর হলে অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা বাধাগ্রস্ত হতে পারে, গোপন সংবাদসূত্রের পরিচয় ফাঁসের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে এবং সংবাদমাধ্যমের কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যাওয়ার পরিস্থিতিও সৃষ্টি হতে পারে। এদিন কেন্দ্রীয় সরকারের বক্তব্য জানতে চেয়ে নোটিশ দিয়েছেন সুপ্রিম কোর্ট। মামলাটির পরবর্তী শুনানি আগামী ১৭ নভেম্বর নির্ধারণ করা হয়েছে।
ডিএনপিএর পক্ষে আইনজীবী মাধবী গোরাডিয়া দিভান আদালতকে বলেন, ডিজিটাল পার্সোনাল ডেটা প্রোটেকশন অ্যাক্টের (ডিপিডিপি অ্যাক্ট) বিধান অনুসারে সাংবাদিকদের অনুসন্ধানের বিষয়বস্তু হওয়া ব্যক্তিদের সম্মতি নিতে হলে সংবাদ সংগ্রহের স্বাভাবিক প্রক্রিয়াই বাধাগ্রস্ত হবে। তার ভাষায়, এ ধরনের শর্ত সংবাদ প্রকাশের আগেই একধরনের ‘প্রি-সেন্সরশিপ’ বা আগাম নিয়ন্ত্রণের পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে।
আইনটির কয়েকটি বিধান ২০২৭ সালের মে মাস থেকে কার্যকর হওয়ার কথা। সংবাদমাধ্যমগুলোর দাবি, সাংবাদিকতার জন্য সুস্পষ্ট অব্যাহতি না থাকায় আইনটি দুর্নীতি, করপোরেট অনিয়ম ও জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন তৈরির পথে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে।
মুকেশ আম্বানির নেটওয়ার্ক১৮ এবং গৌতম আদানির এনডিটিভিসহ ভারতের বড় বড় সংবাদমাধ্যম এই আইনি চ্যালেঞ্জে যুক্ত হয়েছে। ডিএনপিএ বলছে, সরকারের সঙ্গে আগস্টে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা সুরক্ষার আশ্বাস দেওয়া হলেও আইনে সাংবাদিকদের জন্য লিখিত অব্যাহতি রাখা হয়নি। ইউরোপীয় ইউনিয়ন, সিঙ্গাপুর ও বৃটেইনের আইনি কাঠামোয় সাংবাদিকতার জন্য বিশেষ সুরক্ষা রয়েছে বলেও দাবি করেছে সংগঠনটি।
আইনটির আওতায় ব্যক্তিগত ডিজিটাল তথ্য ব্যবহারে সম্মতি নেওয়ার বাধ্যবাধকতা অনুসন্ধানী সাংবাদিকতায় বাধা সৃষ্টি করতে পারে বলে আশঙ্কা সংবাদমাধ্যমগুলোর। তাদের মতে, এতে অনুসন্ধানের লক্ষ্যবস্তু ব্যক্তিরা প্রমাণ নষ্ট বা সংবাদ প্রকাশে বাধা দেওয়ার সুযোগ পেতে পারেন।
সরকারের তথ্য চাওয়ার ক্ষমতা নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে সংবাদমাধ্যমগুলোর। তাদের আশঙ্কা, বিচারিক তদারকি ছাড়া এ ক্ষমতা প্রয়োগ হলে সাংবাদিকদের গোপন সূত্রের পরিচয় ফাঁস হতে পারে।
আইন লঙ্ঘনে সর্বোচ্চ ২৫০ কোটি রুপি জরিমানা এবং নির্দিষ্ট শর্তে কনটেন্ট ব্লক করার বিধানও সংবাদমাধ্যমের জন্য ঝুঁকি তৈরি করছে।
ভারত সরকার আইনটিকে ব্যক্তিগত ডিজিটাল তথ্য সুরক্ষার উদ্যোগ হিসেবে তুলে ধরলেও এর সাংবিধানিক বৈধতা ও সাংবাদিকতার স্বাধীনতার ওপর প্রভাব নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে আইনি লড়াই চলছে।