মধ্যবর্তী নির্বাচনে বড় ধরনের পরাজয়ের পর প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের নীতি ও হোয়াইট হাউস পরিচালনা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছেন তার নিজ দলের নেতারাই। ডেমোক্র্যাটদের হাতে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ চলে যাওয়ার পর রিপাবলিকান মিত্র ও রাজনৈতিক কৌশলবিদরা ট্রাম্পকে প্রশাসনে পরিবর্তন আনা এবং বিতর্কিত নীতি থেকে সরে আসার আহ্বান জানিয়েছেন।
রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানদের এই পরাজয়কে ডনাল্ড ট্রাম্পের জন্য এক ‘বিশাল বিপর্যয়’ বলে আখ্যা দিয়েছেন দলের প্রবীণ কৌশলবিদ জন ফিহিরি। তিনি বলেন, ট্রাম্পকে এখন দ্রুত নিজের ঘর গোছাতে হবে, অন্যথায় প্রতিদিন তিনি আরও বেশি দুর্বল হয়ে পড়বেন।
হোয়াইট হাউজের ভেতরের পরিস্থিতিও বর্তমানে বেশ নাজুক। এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার মতে, কর্মীদের মনোবল এখন তলানিতে ঠেকেছে। কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ ডেমোক্র্যাটদের হাতে চলে যাওয়ায় আগামী দিনগুলোতে প্রশাসনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন তদন্ত শুরু হওয়ার শঙ্কা রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে হোয়াইট হাউজ থেকে অনেক কর্মীর বিদায় নেওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে এবং শীর্ষ সহযোগীরা সম্ভাব্য ডেমোক্র্যাটিক তদন্তের মোকাবিলা করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এত চাপের পরও ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প জানিয়েছেন, এই নির্বাচনকে তিনি নিজের ওপর কোনো আঘাত হিসেবে দেখছেন না।
রিপাবলিকানদের এই পরাজয়ের পেছনের অন্যতম বড় কারণ হিসেবে আট মাস ধরে চলা ইরান যুদ্ধকে সামনে আনছেন বিশ্লেষক ও দলীয় নেতারা। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারির শেষের দিকে শুরু হওয়া এই সংঘাতের কারণে হরমুজ প্রণালী বন্ধ হয়ে যাওয়া এবং বিশ্বজুড়ে অর্থনৈতিক চাপ তৈরি হওয়ার প্রভাব পড়েছে অ্যামেরিকার অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে। স্বয়ং প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পও স্বীকার করেছেন যে, যুদ্ধের কারণে রিপাবলিকান প্রার্থীরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, তবে তিনি এই যুদ্ধ শুরুর সিদ্ধান্তকে জোরালোভাবে সমর্থন করেছেন।
অন্যদিকে, ২০২৮ সালের সম্ভাব্য প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী জেডি ভ্যান্সও মনে করেন যে, নির্বাচনের ফলাফলে ইরান যুদ্ধের বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব রয়েছে। কৌশলবিদদের ধারণা, ট্রাম্পের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক প্রভাব দুর্বল হতে শুরু করলে রিপাবলিকান নেতাদের মধ্যে এমন দূরত্ব আরও বাড়তে পারে। এছাড়া ডিফেন্স সেক্রেটারি পিট হেগসেথের মতো যারা প্রথম থেকেই এই যুদ্ধের পক্ষে ছিলেন, তাদের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়েও এখন প্রশ্ন উঠেছে।
কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ ডেমোক্র্যাটদের হাতে চলে যাওয়ার অর্থ হলো, মেয়াদের বাকি সময়ে ডনাল্ড ট্রাম্পকে আইন পাসের ক্ষেত্রে পদে পদে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হবে। বিশেষ করে ইরান ইস্যুতে সামরিক পদক্ষেপ বা বাজেট বরাদ্দের মতো বিষয়গুলো ডেমোক্র্যাট নিয়ন্ত্রিত কংগ্রেসের কঠোর নজরদারিতে থাকবে। দলের ভেতর থেকে নীতি পরিবর্তনের জোরালো আহ্বান থাকলেও ট্রাম্প যদি তার বর্তমান অবস্থানে অনড় থাকেন, তবে হোয়াইট হাউজ এবং ক্যাপিটল হিলের মধ্যে চরম অচলাবস্থা তৈরি হতে পারে। যা ভবিষ্যত রাজনীতিতে প্রভাব ফেলবে।