ইরানের সঙ্গে ছয় সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে চলা যুদ্ধে নতুন কৌশল হিসেবে তেল অবরোধ শুরু করেছে অ্যামেরিকা। হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে এই পদক্ষেপ শুধু ইরান নয়, বরং বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ও অর্থনীতির ওপর বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করেছে।
অ্যামেরিকার প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প এই অবরোধের মাধ্যমে ইরানকে বৈশ্বিক বাণিজ্য থেকে বিচ্ছিন্ন করার চেষ্টা করছেন। লক্ষ্য—
ইরানের তেল রপ্তানি বন্ধ করে দেওয়া এবং সেই আয়ের উৎস বন্ধ করা, যা দেশটির অর্থনীতির প্রধান ভিত্তি। এই অবরোধ কার্যকর হয়েছে হরমুজ প্রণালিতে— যেখানে দিয়ে স্বাভাবিক সময়ে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও গ্যাস পরিবাহিত হয়।
বিশ্লেষকদের মতে, এই পদক্ষেপ বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে সরাসরি চাপ তৈরি করছে। ইতোমধ্যে প্রায় ২ মিলিয়ন ব্যারেল দৈনিক ইরানি তেল রপ্তানি ঝুঁকির মুখে পড়েছে।
তবে বাস্তব পরিস্থিতি আরও জটিল। যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই ইরান কার্যত প্রণালিতে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে রেখেছে এবং জাহাজ চলাচল সীমিত করেছে। এর ফলে মার্চ মাসে শিপিং ট্রাফিক প্রায় ৯৫ শতাংশ কমে যায়।
ইরান ইতোমধ্যে দেখিয়েছে, তারা এই অঞ্চলে জাহাজে হামলা চালাতে সক্ষম। দেশটি হুঁশিয়ারি দিয়েছে—পারস্য উপসাগরে আবারও হামলা শুরু হতে পারে। বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের বিরুদ্ধে অবরোধ ভেনেযুয়েলা বা কিউবার মতো সহজ হবে না।
বরং এতে আঞ্চলিক জ্বালানি স্থাপনায় হামলা বাড়ার ঝুঁকি রয়েছে।
আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার তথ্যমতে, এই সংঘাতে ইতোমধ্যে ৮০টির বেশি জ্বালানি স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার এক-তৃতীয়াংশ মারাত্মকভাবে এবং উৎপাদন স্বাভাবিক হতে দুই বছর পর্যন্ত সময় লাগতে পারে।
এই সংকটের প্রভাব সরাসরি পড়েছে বৈশ্বিক বাজারে।
- তেলের দাম বেড়ে ১০০ ডলার ছাড়িয়েছে
- শেয়ারবাজারে অস্থিরতা
- জ্বালানি খরচ বেড়েছে বিশ্বজুড়ে
যদিও সাম্প্রতিক সময়ে সম্ভাব্য আলোচনার ইঙ্গিতে দাম কিছুটা কমেছে, তবুও সরবরাহ সংকটের আশঙ্কা এখনো রয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন,তেলের বাজার বৈশ্বিক হওয়ায়—
এক অঞ্চলে সরবরাহ কমলেই বিশ্বজুড়ে দাম বাড়ে।
কিছু বিশ্লেষক মনে করছেন, এই অবরোধ ইরানকে আলোচনায় ফিরতে বাধ্য করতে পারে। কারণ— যদি ইরান তেল রপ্তানি করতে না পারে,
তাহলে দ্রুত তাদের অর্থনৈতিক চাপ বাড়বে এবং উৎপাদন কমাতে বাধ্য হবে।
তবে অন্যরা সতর্ক করছেন— এই পদক্ষেপ সংঘাত আরও বাড়াতে পারে এবং বিশ্ব অর্থনীতিতে দীর্ঘমেয়াদি ধাক্কা দিতে পারে।