গ্রিসের লেসবস ও সামোস দ্বীপের কাছে পৃথক দুটি নৌ-দুর্ঘটনায় ১২ অভিবাসন প্রত্যাশীর মৃত্যু হয়েছে। সোমবার (১৯ অক্টোবর) এজিয়ান সাগরে গ্রিক কোস্ট গার্ডের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দুটি ঘটনায় নৌকা উল্টে এসব প্রাণহানি ঘটে। নিহতদের মধ্যে একটি শিশুও রয়েছে।
গ্রিক কোস্ট গার্ডের বরাত দিয়ে সংবাদমাধ্যম রয়টার্স জানিয়েছে, তুরস্ক থেকে অভিবাসনপ্রত্যাশীদের নিয়ে আসা একটি দ্রুতগতির নৌকা সামোস দ্বীপের প্রায় চার নটিক্যাল মাইল উত্তরে হঠাৎ মোড় নিতে গিয়ে উল্টে যায়। এতে পাঁচ পুরুষ ও এক নারীর মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় ১৪ জন পুরুষকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের একজন ইরানি নাগরিককে মানবপাচারের সন্দেহে আটক করেছে কর্তৃপক্ষ।
এর আগে লেসবস দ্বীপের আগ্রিলিয়া এলাকার কাছে একটি নৌকার সঙ্গে গ্রিক কোস্ট গার্ডের টহলযানের সংঘর্ষ হয়। এতে নৌকাটি উল্টে গেলে চার পুরুষ, এক নারী ও একটি শিশুর মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় বেঁচে যাওয়া আটজনকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।
লেসবসের ঘটনায় বেঁচে যাওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে থাকা ৩৭ বছর বয়সী এক তুর্কি নাগরিককে নৌকার চালক ও সন্দেহভাজন মানবপাচারকারী হিসেবে আটক করেছে কর্তৃপক্ষ।
গ্রিসের নৌপরিবহনমন্ত্রী ভাসিলিস কিকিলিয়াস বলেন, প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, দ্রুতগতির নৌকাটি তার সামনের অংশ দিয়ে কোস্ট গার্ডের টহলযানের বাম পাশে ধাক্কা দিয়েছিল। তবে ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত চলছে।
সামাজিক মাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে কিকিলিয়াস বলেন, মানবপাচারকারীদের বিরুদ্ধে গ্রিসের অবস্থান কঠোর এবং এ বিষয়ে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।
উল্লেখ্য, মধ্যপ্রাচ্য, আফ্রিকা ও এশিয়া থেকে ইউরোপে প্রবেশের অন্যতম পথ গ্রিস। ২০১৫ ও ২০১৬ সালের অভিবাসন সংকটের সময় তুরস্ক থেকে প্রায় ১০ লাখ মানুষ গ্রিসের বিভিন্ন দ্বীপে পৌঁছেছিলেন। এরপর দেশটি অভিবাসন নীতিতে আরও কঠোরতা আনে।
এদিকে, গ্রিসের স্থল ও সমুদ্রসীমা দিয়ে প্রবেশ করা অভিবাসনপ্রত্যাশী ও আশ্রয়প্রার্থীদের জোর করে ফেরত পাঠানোর অভিযোগ করেছে বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা। তবে গ্রিক সরকার এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছে, তাদের কোস্ট গার্ড মানুষের জীবন ও অধিকারের প্রতি পূর্ণ সম্মান রেখেই কাজ করে।