


প্রকাশিত: অক্টোবর ২০ ২০২৬, ১৪:৫৫ হালনাগাদ: অক্টোবর ২০ ২০২৬, ১৫:৪২
ফ্রান্সে জীবনযাত্রার ব্যয় ও শিক্ষাব্যবস্থার সংকট নিয়ে আন্দোলন। ছবি: রয়টার্স
ফ্রান্স থেকে আলবেনিয়া, ভারত থেকে দক্ষিণ আমেরিকা—বিশ্বের বিভিন্ন দেশে তরুণ, শিক্ষার্থী ও নাগরিকদের বিক্ষোভ নতুন করে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক চাপ তৈরি করছে। কোথাও শিক্ষাব্যবস্থার দুরবস্থা ও বাড়িভাড়া বৃদ্ধি, কোথাও দুর্নীতির অভিযোগ, ভোটার তালিকা নিয়ে বিতর্ক কিংবা সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থায়ন আন্দোলনের প্রধান ইস্যু হয়ে উঠেছে।
শুধুমাত্র অক্টোবর মাসেই বিশ্বের অন্তত ১০টি দেশে তরুণ, শিক্ষার্থী ও নাগরিকদের নেতৃত্বে সাম্প্রতিক বিক্ষোভ রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক চাপ জোড়ালো করেছে।
ফ্রান্স, ইটালি, বেলজিয়াম, আলবেনিয়া, স্পেন ও পর্তুগালে জীবনযাত্রার ব্যয়, আবাসন সংকট, শিক্ষাব্যবস্থার দুরবস্থা ও দুর্নীতির অভিযোগ আন্দোলনের প্রধান ইস্যু হয়ে উঠেছে। অন্যদিকে, ভারত, ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা ও চিলিতে নির্বাচনী প্রক্রিয়া, গণতন্ত্র, সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থায়ন এবং শিক্ষা খাতে ব্যয়সংকোচন নিয়ে প্রতিবাদ হয়েছে।
অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি), রয়টার্স, আল জাজিরা ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের সাম্প্রতিক প্রতিবেদন বলছে, এসব আন্দোলনের পেছনে স্থানীয় সংকট আলাদা হলেও তরুণদের মধ্যে ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা, রাজনৈতিক নেতৃত্বের প্রতি অনাস্থা এবং মৌলিক সেবা নিশ্চিত করার দাবি একটি সাধারণ যোগসূত্র তৈরি করেছে।
ইউরোপে ছয় দেশে বিক্ষোভের বিস্তার
১. ফ্রান্স: জীবনযাত্রার ব্যয় ও শিক্ষাব্যবস্থার সংকট
ফ্রান্সে শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বে শুরু হওয়া বিক্ষোভ জীবনযাত্রার ব্যয়, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষকসংকট এবং সরকারি সেবার মান নিয়ে বৃহত্তর আন্দোলনে রূপ নিয়েছে। অক্টোবরের মাঝামাঝি বিভিন্ন শহরে বড় সমাবেশের পাশাপাশি সংঘর্ষ, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের ঘটনাও ঘটে।
এপি’র ১৯ অক্টোবরের প্রতিবেদনে বলা হয়, সপ্তাহান্তের সহিংসতায় প্রায় ২ হাজার ৪০০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং হাজারো ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ সহিংসতার নিন্দা জানিয়েছেন। একই সময়ে শিক্ষার্থী সংগঠনগুলো আরও বিক্ষোভের আহ্বান জানিয়েছে।
২. আলবেনিয়া: দুর্নীতি ও বেকারত্বের বিরুদ্ধে তরুণদের প্রতিবাদ
আলবেনিয়ার রাজধানী তিরানায় প্রধানমন্ত্রী এদি রামার পদত্যাগের দাবিতে শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বে বিক্ষোভ জোরালো হয়েছে। শিক্ষা খাতের দুরবস্থা, কর্মসংস্থানের সীমিত সুযোগ এবং দুর্নীতির অভিযোগ আন্দোলনের গুরুত্বপূর্ণ কারণ।
রয়টার্সের ১৭ অক্টোবরের প্রতিবেদনে বলা হয়, হাজারো তরুণ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সামনে জড়ো হন। বিক্ষোভের একপর্যায়ে কিছু অংশগ্রহণকারী পুলিশের দিকে পাথর ও পেট্রলবোমা ছোড়েন; পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ও জলকামান ব্যবহার করে।
৩. স্পেন: আবাসন সংকটে তরুণদের ক্ষোভ
স্পেনে বাড়িভাড়া বৃদ্ধি, সাশ্রয়ী আবাসনের অভাব ও উচ্ছেদের ঝুঁকি নিয়ে বিক্ষোভ হয়েছে। বিশেষ করে মাদ্রিদে আবাসন সংকট নিয়ে প্রতিবাদ নতুন মাত্রা পেয়েছে।
দ্য গার্ডিয়ানের ১৮ অক্টোবরের প্রতিবেদনে বলা হয়, একজন প্রবীণ নারীকে দীর্ঘদিনের আবাসস্থল থেকে উচ্ছেদের পর তাঁর মৃত্যুর ঘটনা আবাসন অধিকার নিয়ে ক্ষোভ আরও বাড়িয়ে দেয়। প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ ভাড়াটিয়াদের সুরক্ষায় জরুরি আইন প্রস্তাব করলেও পার্লামেন্টে তা ব্যর্থ হয়। এরপর তিনি আগাম নির্বাচনের ঘোষণা দেন।
৪. পর্তুগাল: বাড়িভাড়া ও জীবনযাত্রার ব্যয়ের চাপ
পর্তুগালের লিসবন ও পোর্তোতে তরুণেরা সাশ্রয়ী বাসস্থানের দাবিতে বিক্ষোভ করেছেন।
দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়, বিক্ষোভকারীরা আবাসন সংকট মোকাবিলায় কার্যকর সরকারি পদক্ষেপ দাবি করেছেন। কিছু অংশগ্রহণকারী শহরের কেন্দ্রীয় এলাকায় তাঁবু স্থাপন করে প্রতিবাদ জানান।
আল জাজিরার ১৭ অক্টোবরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, পর্তুগালে বাড়ির দাম ২০১৭ সালের পর দ্বিগুণেরও বেশি বেড়েছে এবং নতুন চুক্তিতে ভাড়ার ব্যয়ও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। আন্দোলনকারীরা মনে করেন, বাড়ির দাম ও ভাড়া বৃদ্ধির তুলনায় আয় না বাড়ায় তরুণ ও নিম্ন আয়ের মানুষের পক্ষে শহরে বসবাস করা ক্রমেই কঠিন হচ্ছে।
৫. ইটালি: মূল্যস্ফীতি ও সরকারি নীতির বিরুদ্ধে বিক্ষোভ
ইটালির মিলানসহ বিভিন্ন শহরে জীবনযাত্রার ব্যয়, সরকারি নীতি এবং সামাজিক সেবার অবস্থা নিয়ে বিক্ষোভ হয়েছে। কিছু সমাবেশ পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে রূপ নেয়।
আল জাজিরার ১৭ অক্টোবরের প্রতিবেদনে বলা হয়, ইটালি, ফ্রান্স, বেলজিয়াম ও পর্তুগালে পৃথক বিক্ষোভে বিপুলসংখ্যক মানুষ অংশ নেন। এসব আন্দোলনের দাবিতে স্থানীয় পার্থক্য থাকলেও জীবনযাত্রার ব্যয় ও অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
৬. বেলজিয়াম: শিক্ষা খাতে ব্যয় ও সংস্কার নিয়ে অসন্তোষ
বেলজিয়ামে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের মধ্যে শিক্ষা খাতের ব্যয়, সংস্কার এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিস্থিতি নিয়ে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, শিক্ষা খাতে ব্যয়সংকোচন ও সরকারি সেবার মান নিয়ে উদ্বেগ বৃহত্তর ইউরোপীয় বিক্ষোভের অংশ হয়ে উঠেছে।
লে মোঁদের ২০ অক্টোবরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, লিয়েজে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন শুরু হয় ১ অক্টোবর। ৯ অক্টোবর ব্রাসেলসে তরুণদের পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন ও নাগরিকদের অংশগ্রহণে বড় সমাবেশ হয়। ১৭ অক্টোবর ব্রাসেলস ও লিয়েজে বিক্ষোভের সময় ব্যারিকেড, অগ্নিসংযোগ ও পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। দুই শহরে প্রায় ২০০ জনকে আটক করা হয়েছিল বলে পুলিশ জানায়; তাঁদের মধ্যে ২৫ জনের বেশি অপ্রাপ্তবয়স্ক ছিলেন।
ইউরোপের বাইরে চার দেশে আন্দোলন
৭. ভারত: নির্বাচনী ব্যবস্থা নিয়ে তরুণদের প্রতিবাদ
ভারতে নির্বাচনী তালিকা সংশোধন ও ভোটারদের অধিকার নিয়ে বিতর্ক তরুণদের নেতৃত্বে নতুন বিক্ষোভের জন্ম দিয়েছে। দিল্লিতে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবি এই বিক্ষোভের কেন্দ্রে ছিলো।
আল জাজিরার ৬ অক্টোবরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, দিল্লিতে বিরোধী জোটের নেতারা নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবিতে মিছিল করেন। তাঁদের অভিযোগ, ভোটার তালিকা সংশোধনের ফলে ক্ষমতাসীন বিজেপি সুবিধা পাচ্ছে। নির্বাচন কমিশন অভিযোগ অস্বীকার করে জানিয়েছে, তালিকা থেকে বাদ পড়া যোগ্য ভোটাররা পুনরায় নিবন্ধন করতে পারবেন।
৮ অক্টোবর আল জাজিরা জানায়, ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (CJP) নামে পরিচিত তরুণদের একটি আন্দোলনও নির্বাচনী জবাবদিহিতার দাবিতে বিক্ষোভে যুক্ত হয়েছে। সংগঠনটি দাবি করে, তাদের সদস্যদের আটক করা হয়েছে।
১৯ অক্টোবর রয়টার্স জানায়, আন্দোলনটির দুই নেতা আশুতোষ রাঙ্কা ও সৌরভ দাসের বিচারিক হেফাজতের মেয়াদ আরও দুই দিন বাড়ানো হয়েছে। যন্তর মন্তরে বিক্ষোভের সময় ব্যারিকেড অতিক্রম করে নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবি জানানোর ঘটনায় তাঁদের আটক করা হয়েছিল।
৮. ব্রাজিল: নির্বাচন, গণতন্ত্র ও রাজনৈতিক মেরুকরণ
ব্রাজিলে তরুণদের বিক্ষোভ আসন্ন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক বিতর্কের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে। রিও ডি জেনেইরোতে শিক্ষার্থীরা ফ্লাভিও বলসোনারোর সম্ভাব্য প্রেসিডেন্ট হওয়ার বিরোধিতা করে মিছিল করেছেন।
এপির ৭ অক্টোবরের প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রথম দফার ভোটে ফ্লাভিও বলসোনারো বর্তমান প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভার চেয়ে বেশি ভোট পান, তবে কেউই প্রয়োজনীয় ৫০ শতাংশ ভোট না পাওয়ায় দ্বিতীয় দফার ভোটে গড়ায়। শিক্ষার্থীদের একাংশ গণতন্ত্র, সংখ্যালঘুদের অধিকার এবং বলসোনারো পরিবারের রাজনৈতিক উত্তরাধিকার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
৯. আর্জেন্টিনা: সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থায়ন নিয়ে আন্দোলন
আর্জেন্টিনায় প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেইয়ের ব্যয়সংকোচন নীতির বিরুদ্ধে শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও বিশ্ববিদ্যালয়কর্মীরা বিক্ষোভ করেছেন। তাঁদের দাবি, সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থায়ন আইন কার্যকর করতে হবে এবং মূল্যস্ফীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বাজেট পুনর্নির্ধারণ করতে হবে।
আল জাজিরার ১৬ অক্টোবরের প্রতিবেদনে বলা হয়, বুয়েনস এইরেস বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা বাজেট কাটছাঁটের প্রতিবাদে সমাবেশ ও ভবন দখল কর্মসূচি পালন করেন। সরকারের ব্যয়সংকোচন নীতি মূল্যস্ফীতি কমানোর লক্ষ্য নিয়ে নেওয়া হলেও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা বলছেন, এর ফলে উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার ভবিষ্যৎ ঝুঁকিতে পড়ছে।
১০. চিলি: শিক্ষা খাতে সম্ভাব্য ব্যয় সংকোচনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ
চিলিতে সরকারি শিক্ষা খাতে সম্ভাব্য বাজেট কাটছাঁটের প্রতিবাদে আন্দোলনে নামে শিক্ষার্থীরা। রাজধানী সান্তিয়াগোতে ১ অক্টোবরের বিক্ষোভে শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও শ্রমিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
এল পাইসের ১ অক্টোবরের প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৭ সালের বাজেট নিয়ে আলোচনার মধ্যে চিলির শিক্ষার্থী সংগঠন কনফেচ জাতীয় কর্মসূচির ডাক দেয়। আয়োজকদের দাবি ছিল, সরকারি শিক্ষায় বরাদ্দ কমানো যাবে না। রয়টার্সের ভিডিও প্রতিবেদনেও শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের শিক্ষা এবং স্বাস্থ্য খাতে কাটছাঁট নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করতে দেখা যায়।
কেন এসব আন্দোলন গুরুত্বপূর্ণ?
দেশগুলোর আন্দোলনের মধ্যে তিনটি বড় প্রবণতা দেখা যায়।
প্রথমত, অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা রাজনৈতিক অসন্তোষ বাড়াচ্ছে। বাড়িভাড়া, খাদ্য ও জ্বালানির ব্যয়, শিক্ষার সুযোগ এবং কর্মসংস্থানের সংকট তরুণদের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। ইউরোপে আবাসন ও জীবনযাত্রার ব্যয় গুরুত্বপূর্ণ হলেও আর্জেন্টিনা ও চিলিতে শিক্ষা খাতের অর্থায়ন কেন্দ্রীয় ইস্যু।
দ্বিতীয়ত, রাজনৈতিক জবাবদিহিতার প্রশ্ন আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। আলবেনিয়ায় দুর্নীতির অভিযোগ, ভারতে নির্বাচনী প্রক্রিয়া নিয়ে বিতর্ক এবং ব্রাজিলে গণতন্ত্র ও রাজনৈতিক উত্তরাধিকার নিয়ে উদ্বেগ তরুণদের রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় করেছে। তবে এসব অভিযোগের ক্ষেত্রে আন্দোলনকারীদের বক্তব্য, সরকারি প্রতিক্রিয়া ও স্বাধীন যাচাই আলাদা করে বিবেচনা করতে হবে।
তৃতীয়ত, সামাজিক মাধ্যম আন্দোলনকে দ্রুত সংগঠিত হতে সাহায্য করলেও, স্থায়ী পরিবর্তনের নিশ্চয়তা দেয় না। অনলাইনে সমর্থন তৈরি করা তুলনামূলক সহজ হলেও আইন পরিবর্তন, বাজেট বরাদ্দ ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের জন্য দীর্ঘমেয়াদি সংগঠন এবং রাজনৈতিক আলোচনার প্রয়োজন।
