ইরানকে চুক্তি করতে ট্রাম্পের চাপ, অবরোধ বাড়ানোর প্রস্তুতি অ্যামেরিকার
- 0


প্রকাশিত: এপ্রিল ২৯ ২০২৬, ১৫:৪৬
ইরানের ওপর চাপ বাড়িয়ে দ্রুত চুক্তিতে পৌছানোর আহ্বান জানিয়েছেন অ্যামেরিকার প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। কয়েকদিনের অচলাবস্থার পর তিনি সতর্ক করে বলেন, তেহরানকে “দ্রুত বুদ্ধিমান হতে হবে”। একই সঙ্গে ইরানের বন্দরগুলোর ওপর অ্যামেরিকার নৌ অবরোধ দীর্ঘায়িত করার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে।
ডনাল্ড ট্রাম্প নিজের সামাজিক মাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেয়া এক পোস্টে বলেন, ইরান এখনো কোনো সমঝোতায় পৌঁছাতে পারছে না এবং তারা “একটি অ-পরমাণু চুক্তি কীভাবে করতে হয় তা জানে না।” তিনি আবারও জোর দিয়ে বলেন, তেহরানকে পারমাণবিক অস্ত্রের পথ থেকে সরে আসতেই হবে।
অ্যামিরিকান সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের অর্থনীতি ও তেল রপ্তানিতে আরও চাপ সৃষ্টি করতে নৌ অবরোধ দীর্ঘায়িত করার পরিকল্পনা করছে। কর্মকর্তারা বলছেন, পুনরায় হামলা শুরু করা বা পুরোপুরি সরে আসার ঝুঁকি এড়াতে এই কৌশল বেছে নিয়েছে ওয়াশিংটন।
অন্যদিকে ইরান তাদের অবস্থান থেকে সরে আসেনি। তেহরান বলছে, তারা শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার অধিকার চায়। বর্তমানে দেশটির কাছে প্রায় ৪৪০ কেজি ৬০ শতাংশ সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত রয়েছে, যা আরও সমৃদ্ধ করলে অস্ত্র তৈরিতে ব্যবহারযোগ্য হতে পারে।
ইরানি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নৌ অবরোধ সত্ত্বেও বিকল্প বাণিজ্যপথ ব্যবহার করে তারা পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে সক্ষম। পাশাপাশি তারা যুদ্ধ শেষ হয়েছে বলে মনে করে না।
এদিকে যুদ্ধের অর্থনৈতিক প্রভাব স্পষ্ট হয়ে উঠছে ইরানে। দেশটির মুদ্রা রিয়াল ডলারের বিপরীতে রেকর্ড নিম্নমুখী হয়ে ১৮ লাখ ১০ হাজারে নেমেছে। মাত্র দুই দিনেই এর মান প্রায় ১৫ শতাংশ কমেছে। একই সঙ্গে মূল্যস্ফীতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৬৫.৮ শতাংশে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।
শান্তি আলোচনায়ও বড় অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। ইরানের সর্বশেষ প্রস্তাবে বলা হয়েছে, যুদ্ধ আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ না হওয়া পর্যন্ত পারমাণবিক ইস্যুতে আলোচনা হবে না। তবে ট্রাম্প শুরু থেকেই এই বিষয়টি আলোচনার কেন্দ্রে রাখতে চান, ফলে দুই পক্ষের অবস্থান বিপরীতমুখী রয়ে গেছে।
হরমুজ প্রণালী নিয়েও উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে। যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ইরান কার্যত নিজেদের জাহাজ ছাড়া অন্যদের চলাচল সীমিত করে দিয়েছে। পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে অ্যামেরিকা ইরানি জাহাজে অবরোধ আরোপ করেছে।
এদিকে ইরানের অভ্যন্তরীণ ক্ষমতার ভারসাম্যেও পরিবর্তন এসেছে। সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লাহ আলী খামেনিসহ কয়েকজন শীর্ষ নেতার মৃত্যু পরবর্তী পরিস্থিতিতে ইসলামিক রেভ্যুলুশনারি গার্ড কর্পসের কট্টরপন্থী কমান্ডারদের প্রভাব বেড়েছে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।
অন্যদিকে ট্রাম্প প্রশাসনের ওপর দেশীয় চাপও বাড়ছে। জ্বালানির দাম বৃদ্ধির কারণে সাধারণ জনগণের অসন্তোষ ক্রমেই বেড়ে চলেছে। এক জরিপে দেখা গেছে, ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা এখন কমে ৩৪ শতাংশে নেমেছে, যা তার বর্তমান মেয়াদের সর্বনিম্ন রেটিং।
আন্তর্জাতিক বাজারেও এর প্রভাব পড়েছে। বুধবার তেলের দাম প্রায় ৩ শতাংশ বেড়ে ব্রেন্ট ক্রুড এক মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। এশিয়ার দেশগুলো জ্বালানি সাশ্রয়ে পদক্ষেপ নিচ্ছে, আর ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন বাড়তি ব্যয় মোকাবিলায় সহায়তা প্যাকেজ চালু করেছে।
