অ্যামেরিকার নতুন হামলায় যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘিত হয়েছে, দাবি ইরানের
- 0


প্রকাশিত: মে ২৬ ২০২৬, ১৪:২৬
দক্ষিণ ইরানে অ্যামেরিকা যে হামলাকে “প্রতিরক্ষামূলক অভিযান” বলছে, সেটিকে যুদ্ধবিরতির লঙ্ঘন হিসেবে দাবি করেছে ইরান। একই সময়ে স্টেইট সেক্রেটারি মার্কো রুবিও বলেছেন, সংঘাত বন্ধে একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে “আরও কয়েকদিন” সময় লাগতে পারে।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, মঙ্গলবার ভোরে দেশটির দক্ষিণাঞ্চলীয় হরমোজগান প্রদেশে অ্যামেরিকার এই হামলা প্রায় সাত সপ্তাহ ধরে কার্যকর থাকা ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতির “স্পষ্ট ও গুরুতর লঙ্ঘন।” ইরানি গণমাধ্যম ওই এলাকায় বিস্ফোরণের শব্দ শোনার খবর দিয়েছে।
অন্যদিকে অ্যামেরিকার সেন্ট্রাল কমান্ড বা সেন্টকম বলছে, ইরানি বাহিনীর হুমকি থেকে তাদের সেনাদের সুরক্ষা দিতেই নতুন হামলা চালানো হয়েছে। এদিকে, ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী মঙ্গলবার জানিয়েছে, তারা পাল্টা জবাব দেওয়ার অধিকার সংরক্ষণ করে। বাহিনীটির দাবি, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ইউনিট একটি অ্যামেরিকান ড্রোন ভূপাতিত করেছে এবং আরও একটি ড্রোন ও একটি যুদ্ধবিমানের দিকে গুলি ছুড়েছে, যেগুলো উপসাগরীয় অঞ্চলে ইরানের আকাশসীমায় প্রবেশ করেছিল বলে তারা অভিযোগ করেছে।
পবিত্র হজ উপলক্ষে নিজের টেলিগ্রাম পোস্টে দেওয়া এক বার্তায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনি বলেন, “সময়কে আর পেছনে নেওয়া যাবে না, এবং এই অঞ্চলের দেশ ও ভূখণ্ড আর কখনোই অ্যামেরিকার সামরিক ঘাঁটির ঢাল হয়ে থাকবে না।”
তিনি আরও বলেন, “ডেথ টু অ্যামেরিকা” এবং “ডেথ টু ইসরাইল” এখন ইসলামি বিশ্বের এবং নিপীড়িত জনগণের স্লোগানে পরিণত হবে।
ভারতের জয়পুরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে মার্কো রুবিও বলেন, যুদ্ধ বন্ধে সম্ভাব্য চুক্তি হতে “আরও কয়েকদিন” সময় লাগতে পারে। তবে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, হরমুজ প্রণালী “যেভাবেই হোক খোলা রাখতে হবে।”
ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে অ্যামেরিকা ও ইসরাইলের হামলার পর থেকেই পুরো অঞ্চল অস্থির হয়ে ওঠে। পাল্টা জবাবে উপসাগরীয় অঞ্চলে অ্যামেরিকান ঘাঁটি থাকা দেশগুলোর দিকে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় ইরান।
এই সংঘাতের সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়েছে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে। স্বাভাবিক সময়ে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস হরমুজ প্রণালী দিয়ে পরিবাহিত হয়। কিন্তু যুদ্ধ শুরুর পর প্রতিদিন যেখানে ১২৫ থেকে ১৪০টি জাহাজ চলাচল করতো, সেখানে এখন মাত্র কয়েক ডজন জাহাজ এই পথ ব্যবহার করছে।
মঙ্গলবার অ্যামেরিকান হামলার খবর প্রকাশের পর আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম প্রায় ৩ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৯৮ ডলার ৯১ সেন্টে পৌঁছায়। জ্বালানির পাশাপাশি সার ও খাদ্যপণ্যের দামও বেড়েছে।
অন্যদিকে প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প ট্রুথ সোশ্যালে দাবি করেছেন, ইরানের সঙ্গে আলোচনা “ভালোভাবেই এগোচ্ছে।” তবে একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করেছেন, আলোচনা ব্যর্থ হলে নতুন হামলা চালানো হবে। ট্রাম্পের ভাষায়, “এটি হয় সবার জন্য বড় চুক্তি হবে, নয়তো কোনো চুক্তিই হবে না।”
এদিকে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন কূটনৈতিক তৎপরতাও চলছে। কাতারের দোহায় সোমবার বৈঠক করেছেন ইরানের শীর্ষ আলোচক মোহাম্মদ বাঘের ঘালিবাফ, দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর।
ইরানি সংবাদমাধ্যম তাসনিম জানিয়েছে, আলোচনার অন্যতম প্রধান বিষয় ছিল বিদেশে জব্দ থাকা প্রায় ২৪ বিলিয়ন ডলার ইরানি তহবিল মুক্ত করা। ফার্স নিউজ বলছে, এই অর্থ ছাড় করাই এখন সম্ভাব্য সমঝোতা স্মারকের শেষ বড় বাধা।
ইরানি সূত্রগুলো বলছে, প্রাথমিক সমঝোতায় যুদ্ধ বন্ধ, হরমুজ প্রণালীতে ৩০ দিনের কাঠামোগত চলাচল ব্যবস্থা এবং কিছু আর্থিক ছাড় অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে। পারমাণবিক কর্মসূচির মতো জটিল বিষয় দ্বিতীয় ধাপের আলোচনায় তোলা হবে।
