উত্তর-পূর্ব কঙ্গোর বুনিয়া শহরের একটি আশ্রয়কেন্দ্রে বিরল ভাইরাস ইবোলা সংক্রমণের লক্ষণ নিয়ে গত মে থেকে চলতি মাস পর্যন্ত কমপক্ষে ৩০ জনের মৃত্যু হয়েছে।
ইবোলার প্রাদুর্ভাবের শিকার কিগোঞ্জে নামের ওই আশ্রয়কেন্দ্রের মুখপাত্র কার্তিয়াস জানান, দেড় মাসের মধ্যে আশ্রয়কেন্দ্রে এতোজনের মৃত্যুর ঘটনা নজিরবিহীন। তবে সবার মৃত্যুর কারণ আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। কারণ, আক্রান্ত্র ব্যক্তি ও তাদের আত্মীয়র গত বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ভাইরাসের পরীক্ষা করতে কোনোভাবেই সম্মতি দিচ্ছিলেন না। তবে মৃতদের সবাই জ্বর, বমি, মাথাব্যথাসহ ইবোলা সম্পর্কিত বিভিন্ন রোগে ভুগছিলেন।
আশ্রয়কেন্দ্রের অপর একজন মুখপাত্র গ্রোডিয়া জানান, স্বেচ্ছাসেবকেরা মৃত ভুক্তভোগীদের কয়েকজনের নমুনা সংগ্রহ করেছিল, যারা সবাই ইবোলা আক্রান্ত ছিলেন নিশ্চিত হয়। ভুক্তভোগীদের মধ্যে গর্ভবতী নারী ও শিশুরাও ছিল বলে জানান তিনি।
এদিকে, ইবোলার সংক্রমণে দ্রুত প্রাণহানির ঘটনায় ১৫ হাজার বাস্তুচ্যুত বাসিন্দাদের আশ্রয়কেন্দ্র কিগোঞ্জে, যেখানে সাধারণত যুদ্ধ থেকে পালিয়ে আসা কঙ্গোর বেসামরিক নাগরিকরা আশ্রয় নেয়। কেন্দ্রটিতে ভাইরাস থেকে এত সংখ্যক মৃত্যু দেশজুড়ে ভাইরাসটির প্রাদুর্ভাবের ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে তুলেছে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায়, এসবকিছুর ভিতর আশ্রয়কেন্দ্রের বাসিন্দাদের ভাইরাস চিহ্নিতকরণ পরীক্ষায় অনীহা এবং পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা, সুপেয় পানির অভাব ভাইরাস মোকাবিলায় বড় বাঁধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। অ্যামেরিকাসহ বিভিন্ন দাতা দেশগুলো অর্থায়ন প্রায় বন্ধ করে দেওয়ায়, এ ধরনের কাজে কঙ্গোর বরাদ্দ প্রায় অর্ধেকে নেমেছে।
প্রাণিবাহিত ভাইরাস ইবোলা সাধারণত আক্রান্ত ব্যক্তির ত্বক, ঘাম ও বর্জ্যপদার্থের মাধ্যমে দ্রুত অন্য দেহে ছড়িয়ে পড়ে।
গত ১৫ মে কঙ্গো সরকার প্রথম দেশটিতে ইবোলা সংক্রমণের ঘোষণা দেয়। তবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, ঘোষণার আগেই ভাইরাস সংক্রমণে প্রাণহানি শুরু হয়েছিল, যা এখনও জরুরি অবস্থার আওতায় আছে।